বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্যালিকা ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত দুলাভাই বাকী বিল্লাহ (৪৮) উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল মহল্লার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২জুলাই) ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, নন্দীগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেফতার বাকী বিল্লাহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিজরুল) হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব ও গোছাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার। তিনি ভাটগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড ইউনিটের নেতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিনি দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন এবং সক্রিয় নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গোছাইল দাখিল মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে আত্মীয়তার সুবাদে চাচাতো শ্যালিকার খোঁজ নিতেন অভিযুক্ত বাকী বিল্লাহ। শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবতীর দিকে তার কুনজর ছিল। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার কয়েক মাস পর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা। গত ৬ জুন বগুড়ার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। প্রতিবন্ধী যুবতী ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের প্রভাবে ঘটনাটি দফারফা করার চেষ্টা চলে। পুলিশের পরামর্শে গত ২৫ জুন বগুড়ার আদালতে নারী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী যুবতীর বাবা। আদালতের আদেশে বুধবার (১ জুলাই) নন্দীগ্রাম থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, নিয়মিত মামলা রেকর্ড করে আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।