1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
টাকা ফেরত চাই’-কাফনের কাপড় পরে উখিয়ায় সড়ক অবরোধ চকরিয়ায় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার কক্সবাজারের রামুতে ২ কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক ১ অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় প্রলোভন দেখান এমপি গাজী নজরুল চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের না ধরলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের শ্রদ্ধা নিবেদন পেশকারপাড়ার ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি চাঁদ আটক উখিয়ার সড়কে ফের বাঁশবোঝাই ট্রাকের দৌরাত্ম্য উখিয়ায় বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ২৫ বছর পর মায়ের বুকে ফিরল উখিয়ার ফরিদ

অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় প্রলোভন দেখান এমপি গাজী নজরুল

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২২/০৮/২০২৬ ৮:৫৮ পিএম

অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ জানার পর বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তাকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজের প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেছেন ওবায়দুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তিনি অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তাকে প্রলোভন দেখান। পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে ওবায়দুরের জীবন বদলে যাবে বলেও আশ্বাস দেন গাজী নজরুল।

ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি ও হামলার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারীর পাশাপাশি গাড়িচালকের কাজ করতেন ওবায়দুর।

গাজী নজরুলের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তার সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’।

ওই তরুণীর আত্মীয় হচ্ছেন গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। সম্পর্কে ওই তরুণী ভাগনি হয় ওবায়দুরের।

গাজী নজরুল সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।

তবে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন গাজী নজরুল তাকে (ওবায়দুর রহমান) প্রথমে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িচালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাবও দেন। তিনি অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের কথা বিবেচনা করে গাড়িচালকের কাজ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান জানান, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি।

ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাকে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তিনি টাকা নেননি, গাড়িচালকের কাজ করতে রাজি হন।

ওবায়দুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন ওবায়দুর। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে তাদের (তরুণী ও ওবায়দুর) দেখা হয়। ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার (ওবায়দুর) ওপর হামলা চালান এবং তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ওবায়দুর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন।

ওই ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ওবায়দুর।

মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেফতার হলেও পরে আদালত তাদের জামিন দেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর রহমান।

এর মধ্যে ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তার বোন ও তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com