1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কক্সবাজারে পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা : স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উখিয়ায় জমি চাষের সময় হামলার , নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে ‘শতাধিক নারী’ থেকে টাকা নেন মহিলা দলের নেত্রী গভীর রাতে গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুব জামায়াত নেতা কক্সবাজারে বাস-জিপ সংঘর্ষ, বাসের চাপায় প্রাণ গেল ৪ জনের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল মামলা নিষ্পত্তিতে এগিয়ে থাকা জেলাগুলোকে পুরষ্কৃত করা হবে: আইনমন্ত্রী কক্সবাজারসহ ১২ জেলায় চালু হল ডিজিটাল জামিননামা কক্সবাজারে ভুল ব্যক্তির ফাঁসির রায়!

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কক্সবাজারে পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা : স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৩/০৮/২০২৬ ৯:৪৪ পিএম

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত অন্যতম বেসরকারি সংস্থা ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ (জিকে)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদ এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চরম প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, স্থানীয় কর্মী ছাঁটাই, স্বজনপ্রীতি ও কর্মীদের লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদত্যাগপত্র, লিখিত অভিযোগ ও ইমেইল বার্তা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এসব অনিয়মের কারণে সংস্থায় চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোও এখন ঝুঁকির মুখে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য ও ঔদ্ধত্য প্রকাশঃ
নথিপত্র অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে না জানিয়ে জ্যেষ্ঠ এক আইটি অফিসারকে চাকরিচ্যুত করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদ। নিয়ম মেনে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে তিনি তা উপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উক্ত বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে পরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করলেও তিনি সিইও-র নির্দেশ অমান্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ এপ্রিল ওই কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার সময় সিইও-র আদেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ডা. মুনজুর উচ্চবাচ্য করে বলেন, “এখানে সিইও বা ট্রাস্টি চেয়ারম্যান কারও নির্দেশ চলবে না, আমার নির্দেশই চূড়ান্ত।”

কর্মীদের লাঞ্ছনা ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগঃ
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন বরাবর পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসের পর মাস নিয়োগপত্র ঝুলিয়ে রাখা, বেতন-ভাতা ও প্রকল্পের ফাইল আটকে রাখা এবং ছুটির দিনে জোরপূর্বক ডিউটি করানোর মতো মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। গত ৬ জুন কর্মীরা এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলতে জিকে-এমআই অফিসের মিটিং রুমে সমবেত হলে তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ উঠেছে, তিনি উপস্থিত কর্মীদের ‘গার্মেন্টস কর্মী’ ও ‘দিনমজুর’ বলে গালিগালাজ করেন, অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং প্রতিবাদ জানালে এক কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করেন।

স্বজনপ্রীতি ও চিকিৎসকদের পদত্যাগঃ
অসহনীয় প্রশাসনিক পরিবেশ ও স্থানীয় কর্মীদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে গত ৬ মাসে সংস্থাটি থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্যাম্প-১১-এর ক্লিনিক ম্যানেজার ডা. সানজিদা, মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ডা. জাফর সাদেক এবং মেডিকেল অফিসার ডা. রাবেয়া বসরী মৌসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করা হয়, নিয়ম ভেঙে এক নারী কর্মকর্তাকে বিনা সাক্ষাৎকারে পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রসূতি কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে, নিয়োগ বোর্ডে মার্কশিট জালিয়াতি এবং সরকারি ও এনজিও ব্যুরোর নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে কক্সবাজারের স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদী কর্মকর্তাদের দূরবর্তী জেলা বা ঢাকায় বদলি করে কক্সবাজার প্রকল্পকে অভিজ্ঞ কোর-স্টাফশূন্য করে ফেলা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রকল্পঃ
কক্সবাজার ও ভাসানচরে ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ডব্লিউএফপি (WFP), ইউনিসেফ (UNICEF), কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি অনুমোদনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত অডিট ও কমপ্লায়েন্স রক্ষায় সহযোগিতা না করায় দাতা সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তের আশ্বাস সিইও-র, এমপি কাজলের ডিও লেটার
অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মুনজুর-ই-মুর্শিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এইচ এম শফিকুজ্জামান জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে ছাড় দেওয়া হবে না।” অবশ্য তিনি জানান, কিছু কর্মীর ছাঁটাই প্রকল্প ফান্ডের ঘাটতির কারণে স্বাভাবিক নিয়মে হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজারের এনজিও ও আইএনজিওগুলোতে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের অন্তত ৬০ শতাংশ চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব (এনজিও বিষয়ক) বরাবর একটি বিশেষ আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। এমপি কাজল সতর্ক করে জানান, “গণস্বাস্থ্যসহ যেকোনো এনজিওতে স্থানীয় কর্মীরা বৈষম্য বা অন্যায় ছাঁটাইয়ের শিকার হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র: টিটিএন

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com