কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ হওয়া জমিতে সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন ও গাছ ফেলে পথরোধের মুখে বিআইডব্লিউটিএ কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার আব্দুল ওয়াকিল জানান, চলতি বছরের ১–৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সাড়ে চার শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীতীরের ৬৩ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়। পরে ২০১৯ সালের যৌথ জরিপ অনুযায়ী সীমানা পিলার, সাইনবোর্ড ও কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতেও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সকালে ঘটনাস্থলে দেখা যায়—কস্তুরাঘাট এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন এবং গাছ ফেলে পথরোধ করে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভকারীরা পরিবেশ উপদেষ্টার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় এবং বিকট শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জমিতে জোর করে পিলার বসানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং আদালতের স্থগিতাদেশ মানা হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শত শত পরিবারের জমি রয়েছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো কাগজপত্র গ্রহণ করছে না।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ দাবি করেন, বিআইডব্লিউটিএ আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করছে এবং জমির কাগজ যাচাই না করেই সীমানা নির্ধারণে এগোচ্ছে, যা আইনগতভাবে সঠিক নয়।
অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুর রহমান জানান, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হবে।