
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) টেকনাফ থেকে বিকেল পৌঁনে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছে ৯ বছর বয়সী এই শিশু।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদ সন্ধ্যায় বলেন, গুলি শিশু হুজাইফা আফনানের মুখে ডানপাশে দিয়ে মাথায় ঢুকেছে।
সিটি স্ক্যান করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে গুলি বেরিয়ে গেছে নাকি ভেতরে আছে। এখানে ভর্তির পর থেকে লাইফসাপোর্টে আছে। চিকিৎসা চলছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চমেক হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। পৌঁনে পাঁচটা থেকে হাসপাতালের আইসিইউ লাইফসাপোর্টে আছে। আইসিইউ-২ এর ২৭ নং শষ্যায় চিকিৎসাধীন আছে।
শিশু হুজাইফাকে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ থেকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে আসা তার চাচা শওকত আলী জানান, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন হোয়াইক্যাং তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের সন্ত্রাসীর ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে হুজাইফা আফনান। সে স্থানীয় লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়নরত।
জানা যায়, হুজাইফা আফনান টেকনাফের হোয়াইক্যাং লম্বাবিল এলাকার জনৈক জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
এরআগে গুলিবিদ্ধ হওয়া হুজাইফা মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশের একটি সূত্র জানালেও পরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তথ্যটি সঠিক নয়।
এদিকে হুজাইফা আফনান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিল।