
স্বপ্নের মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে বাস্তবতার কঠিন মুখোমুখি হতে হলো নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষের। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বঙ্গোপসাগর থেকে ২৭৩ জন যাত্রী ও মানবপাচার চক্রের ১০ দালালকে উদ্ধার ও আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ অভিযান চালিয়ে একটি কাঠের বোটসহ তাদের উদ্ধার করে। পরে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উদ্ধারকৃতদের টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে আনা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কাঠের বোটের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও বোটটি না থেমে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাৎক্ষণিক ধাওয়ার মাধ্যমে বোটটি আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃতরা জানান, তারা দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বোটটিতে মানবপাচার চক্রের ১০ জন সক্রিয় সদস্য উপস্থিত ছিল।
উদ্ধারকৃত যাত্রী মো. জুনায়েদ বলেন,
“গতকাল রাজারছড়া ঘাট দিয়ে আমরা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হই। প্রায় ১৫ ঘণ্টা যাত্রার পর সেন্টমার্টিনের অদূরে নৌবাহিনীর হাতে আটক হই। ক্যাম্পের বন্দী জীবন থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”
আটক হওয়া ট্রলারের মাঝি রোহিঙ্গা মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন,
“এক বছর আগেও যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। এটি দ্বিতীয় যাত্রা। টেকনাফের মহেষখালী পাড়ার কয়েকজন দালাল এই যাত্রীদের সংগ্রহ করেছে।”
আরেক উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা মো. আব্দুল মজিদ জানান,
“আমাদের ট্রলারে নারী, শিশু ও পুরুষ ছিল। কিছু বাংলাদেশিও ছিল। ভাগ্য ভালো, নৌবাহিনী আমাদের আটক করেছে।”
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“নৌবাহিনী আটক দালালসহ ২৭৩ জনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”