নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারসহ বাহিনীর সব ইউনিটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তবে র্যাব বলছে, তারা এরকম কোনো আশঙ্কা বা হুমকি এই মুহূর্তে দেখছে না। তারা প্রত্যাশা করছে, অপরাধীরা এই ধরনের সাহস অন্তত করবে না। তারপরও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পল্টনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
খালিদুল হক হাওলাদার জানান, গত ২৭ এপ্রিল র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মোহাম্মদপুর ও পল্টনের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছেন। পরে র্যাব-২ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন আব্দুর রহমান, রহমত উল্লাহ, মনিরুল ইসলাম ওরফে রাডার মনির, মো. নুর হোসেন, আল আমিন ওরফে ফাটা আল আমিন ও মো. সুর নবী।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ৩৩ রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি এবং এক লাখ দুই হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। এছাড়া একই রাতে মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও একটি কার্তুজ জব্দ করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধীরা অপরাধ যাতে করতে না পারে সে জন্য ২৪টি টহল দল মোহাম্মদপুর, আদরবর, ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট ও শেরে-বাংলা নগর এলাকায় টহল পরিচালনা করে। আমরা মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছি। আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যৌথ সহযোগিতায় কাজ করছে। একসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন ছিল, আমরা সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশসহ এই জেনেভা ক্যাম্পে ডজনের ওপর ব্লক রেইড দিয়েছি। জেনেভা ক্যাম্পে যে মাদকের প্রবণতা, আমরা তা অনেকাংশে কমিয়েছি। আমাদের এই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। সামনেও চলমান থাকবে।’
‘আমাদের ২৪ ঘণ্টায় তিন শিফটে আটটা করে টহল দল কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা শুধু চেকপোস্ট স্থাপন করি। এটা আমাদের চলমান আছে এবং তা রাখবো,’ যোগ করেন তিনি।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যেকোনো হুমকি, যেকোনো ঝুঁকি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এই বিষটি আমরা অবগত হয়েছি। আমাদের যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি অফিস এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভবন-স্থাপনা আছে, সবগুলোতে নিরাপত্তা দিতে আমাদের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়জিত রয়েছে। তবে আমরা আশা করি, এরকম কোনো আশঙ্কা বা হুমকি এই মুহূর্তে আমরা দেখছি না। আমরা প্রত্যাশা করছি, অপরাধীরা এই ধরনের সাহস অন্তত করবে না। আমাদের সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ডিপ্লোয়মেন্ট রয়েছে।’