
চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালনাকারী, একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি এবং ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল টিপু (৪৯) কে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ডবলমুরিং মডেল থানাধীন আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বাশার স্কোয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত “আয়ান এন্টারপ্রাইজ” নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সালী, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) খায়রুল বাশার, ওসি মো. বাবুল আজাদ এবং ডবলমুরিং থানার একটি চৌকস অভিযানিক দল।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় টিপু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সিলিংয়ের উপরে লুকানো অবস্থায় একটি কাঠের বাটযুক্ত দেশীয় তৈরি দো-নলা বন্দুক (দৈর্ঘ্য ১৭ ইঞ্চি), ড্রয়ার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৬ রাউন্ড বুলেট, ৪টি ১২ বোর কার্তুজ, ১টি ORION WHITE FLARE রাবার কার্তুজ, ৬টি ক্লিনিং রড, ১টি HP ল্যাপটপ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের নিশান প্রাইভেটকার (চট্টমেট্রো-ঘ ১১-৪৩৫২) জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে বাকি অস্ত্র ও গুলি সে অফিসে লুকিয়ে রাখে এবং ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা করে।
পুলিশ জানায়, মোস্তফা কামাল টিপু একজন দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সন্ত্রাসী টিপু’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা নং–৩৭, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫, The Arms Act, 1878 (Section 19A) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।