
কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারীরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারক লিপি প্রদান করে পরীক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে তারা বলেন,২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলায় অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী, পরিসংখ্যান, ড্রাইভার, কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নৈরাজ্য দেখা গেছে। পরীক্ষার পূর্বেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তারা বলেন, সিভিল সার্জন মোহাম্মদুল হক একজন দুর্নীতিবাজ মানুষ, যা কক্সবাজারবাসী জানে। তিনি তড়িৎগতিতে ১৬০ টি ডিভাইস কন্ট্রাক করে ১৬০ টি গ্রামীন সীম ব্যবহার করে কলাতলির একটি ত্রি-স্টার মানের হোটেলে বসে পরীক্ষা নিয়েছেন। তারপর উত্তরপত্র তৈরী করার জন্য তিনজন বিসিএস ক্যাডার এনে তাদেরকে ৩০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। এ ছাড়া সিভিল সার্জন অফিসের একজন অসাধু কর্মচারী পেনড্রাইভের মাধ্যমে উত্তরপত্র সাপ্লাই দেন। পরীক্ষা না দিয়েও লিখিত পরীক্ষায় পাস করা কুতুবদিয়া উপজেলার এক লোককে নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি ভাইভা পরিক্ষায় উপস্থিত হননি।
তারা বলেন, সিভিল সার্জন অফিসের নিযোগ বানিজ্যের প্রধান হচ্ছে ডা: মোহাম্মদুল হক, তার সহকর্মি মোয়াজ আবরার, স্টেনো ওসমান গনি, পংকজ পাল, প্রধান সহকারি মুজিব রাতে প্রশ্ন করার পর ভোর ৭ টার দিকে তারা ডিসি অফিস ত্যাগ করেন এবং পেনড্রাইপ করে সাথে প্রশ্ন নিয়ে যান, তাদের চাহিদা মতো টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন বিতরণ করেন, তাও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা সত্যেও পাশ করিয়ে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়মের সত্যতা যাচাই এবং সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। তা না হলে দ্রুত উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরীক্ষার্থী-মুমেন আব্দুল্লাহ, ইমরানুল ইসলাম ও আতাউল গনী সাব্বির। এসময় অভিভাবকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।