
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে হুমকি প্রদান এবং কাফনের কাপড় পাঠানোর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গণতন্ত্রবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন প্রার্থীর নিরাপত্তাকেই নয়, বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে।”
মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হুমকিদাতাদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি বা সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
শতিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডাকযোগে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে উড়ো চিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়, খামে চিঠির সাথে একটি সাদা কাপড়ের টুকরোও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে তারিখ ২৩-১২-২৫ ও প্রেরক কথিত ‘ব্যাটালিয়ন-৭১’ এর কক্সবাজারের আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর মুমিনুল আলম দাবি করে লেখা হয়, ‘জনাব, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আপনার নিকট অনুরোধ রইল, আপনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।’
‘অন্যথায় পরিনতি শরীফ ওসমান হাদীর মত হবে’ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আপনি ২৪ ঘন্টা আমাদের কিলিং স্কোয়াডের নজরদারীতে আছেন। আপনার জন্য একটি কাফনের কাপড় উপহার হিসাবে পাঠালাম।’
শাহজাহান চৌধুরী জানান, ‘ দলের প্রধান তারেক রহমান খোঁজ নিয়েছেন, তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বাকিটা আল্লাহ সহায়।’
উড়ো চিঠি প্রসঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আহমদ জানান, ‘ সাধারণ ডায়েরিটা গ্রহণ করা হয়েছে, নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘
উল্লেখ্য এই ঘটনার প্রতিবাদে উখিয়া ও টেকনাফের বিএনপির পৃথক বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছে।