
আওয়ামী লীগের মতই জঘন্য কাজ করছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের জুলুমও হার মানাচ্ছে এ জামায়াত। তারা টার্গেট করে আমাদের বিএনপি নেতাদের হেয় প্রতিপন্ন করছে। ওরা বলে ওনারা নাকি আল্লাহর আইন কায়েম করতে চায়! তাহলে ওরা মানুষের ক্ষতি করে কেন?
রাসুল সাঃ তো বলেছেন “প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।”
আর মিথ্যা প্রোপাগান্ডা প্রচার ও মানুষের সম্মানহানি বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মিরাজের রাতে আমি এমন এক দল মানুষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, যাদের নখগুলো তামার তৈরি এবং তা দিয়ে তারা অনবরত তাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে আঁচড় মারছে।আমি বললাম, হে জিবরিল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা সেসব লোক, যারা মানুষের গোশত খেত (গিবত করত) এবং তাদের মানসম্মানে আঘাত হানত।’
সুতরাং যাদের হাত দিয়ে মানুষ জুলুমের শিকার হয় এবং যাদের মিথ্যা কথা ও অপবাদের মাধ্যমে মানুষের সম্মানহানি হয়, তারা কখনো পূর্ণাঙ্গ ও আদর্শ মুসলমান হতে পারেনা মন্তব্য করেছেন মুরাদনগরের সাবেক ৫ বারের এমপি ও মন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে মুরাদনগরের বাঙ্গরা সীমানারপাড় মরহুম হাজী ‘মরহুম হাজী রুহুল আমিন ও হাজী মোমেনা বেগম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন- আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের মত জামায়াতে ইসলামী অপপ্রচার আর কুৎসা রটিয়ে বিএনপিকে কলঙ্কিত করতে চায়। ইনশাআল্লাহ এরা সফল হবে না। আল্লাহ জালিম আওয়ামী লীগ থেকে যেভাবে দেশকে বাচিয়েছে নব্য জালিম জামায়াতে ইসলামীর হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করে বিএনপিকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিক নেতা গোলাম মোস্তফা ও পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই কাজী জুন্নুন বসরী।
প্রতিযোগিতায় উপজেলার মোট ৩৮টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। কয়েক ধাপের বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বে ২০টি মাদ্রাসার হাফেজরা স্থান পায়। ৫ পারা ও ১০ পারা—এই দুই ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা হাফেজ বেলাল হোছাইন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া,নজরুল ইসলাম,কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তাহমিনা আক্তার মিনা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জহিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান খান,ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি গাজী আব্দুল বাছির,সমাজসেবক ওবায়দুল হক সরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী জুন্নুন বসরী বলেন, “কোরআনের হাফেজরা দেশ ও জাতির সম্পদ। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে এই ধরণের প্রতিযোগিতা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে।”
প্রতিযোগিতা শেষে দুই ক্যাটাগরিতে সেরা ৬ জন বিজয়ীর হাতে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাকি সকল শিক্ষার্থীকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সামসুল আলম সরকার মজনু, আমেরিকা প্রবাসী শাহিন সরকার, সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর বশির আহম্মদ, দুলাল মিয়া, জাহাঙ্গীর সদাগর, , খাইরুল হাসান ও দুলাল সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।