
মহেশখালী থানার কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব সাহার বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে নারী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার কালারমারছড়া উত্তর ঝাপুয়া পাহাড়তলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম জানান, রবিবার বিকালে এসআই রাজিব দুই কনস্টেবলসহ তার দেবরের প্রথম স্ত্রী কাজলকে নিয়ে তার বসতবাড়িতে গিয়ে রোকসানার স্বামী মো. ছিদ্দিক ও তার দেবর হেলাল কোথায় জানতে চায়। তার স্বামী ছিদ্দিক বাড়িতে নেই জানালে রোকসানাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন, পরে গলায় বেশ কয়েকবার আঘাত করে মারধর করেন। এসময় তার স্কুল পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সায়েদকেও (১৫) চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোকসানা বেগম আরও জানান, তার দেবর মো. হেলালের সাথে তার স্বামী মো. ছিদ্দিকের কোনো সম্পর্ক নেই তিন বছর ধরে। হেলালের প্রথম স্ত্রী কাজল ও দ্বিতীয় স্ত্রী খালেসা বেগমকে আলাদাভাবে বাড়ি করে দিয়েছে হেলাল। তারা এই বাড়িতেও থাকে না। হেলালের প্রথম স্ত্রী কাজলের অভিযোগে তার স্বামী হেলালকে না পেয়ে রোকসানাকে (হেলালের বড় ভাইয়ের স্ত্রী) মারধর করেছে বলে জানান তিনি। হেলালের সাথে তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহ থাকতে পারে এই বিষয়ে তাকে এবং তার স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে গালিগালাজ ও মারধরের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন এই ভুক্তভোগী নারী।
এই বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী পারভীন আক্তার ও মোকাররমা বেগম জানান, আজ দুপুরে হঠাৎ পুলিশ এসে কাজলের স্বামী হেলাল কে না পেয়ে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে গালিগালাজ ও মারধর করেছে। এই ঘটনায় রোকসানা বেগমের গলায় জখমের চিহ্ন রয়েছে।
মুঠোফোনে জানতে চাইলে কালারমারছড়ার পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব সাহা বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি’। বিষয়টি অসত্য।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, তার থানার দায়িত্বরত কোনো পুলিশ সদস্য যদি কাউকে হয়রানি বা গায়ে হাত তুলে এই বিষয়ে ভুক্তভোগী তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।