1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor

সীমান্ত জনপদের জনআস্থার প্রতিচ্ছবি অধ্যক্ষ আনোয়ারী!

✍️ সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার

প্রকাশিত: ২৫/০৮/২০২৫ ৩:৫৭ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত জনপদের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে এক নাম উচ্চারিত হয় বারবার। মানুষের মুখে মুখে সেই নামটি শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং এক অভিভাবকের সমার্থক হয়ে বেঁচে আছে। তিনি অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী—টানা চারবারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিদ, মানব সেবক এবং বর্তমানে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর।

রাজনীতির শুরু, চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে জয় :

২০০৩ সাল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তখন প্রবল দাপট বিএনপির। হোয়াইক্যং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম লেখান এক তরুণ শিক্ষাবিদ, নুর আহমদ আনোয়ারী। প্রতিপক্ষ ছিলেন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মরহুম মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী—প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সাধারণ মানুষের ভোটে আনোয়ারী জয়ী হলেন ১,১৭৫ ভোটের ব্যবধানে। সে জয়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর অপরাজিত যাত্রা।
দ্বিতীয়বার নির্বাচনে পরাজিত করেন মরহুম মোস্তাক আহমেদের ছেলে জুনাইদ আলিকে ২,৩৩৫ ভোটে।
তৃতীয়বার আওয়ামী লীগের ফরিদুল আলমকে হারান ৩,২৭০ ভোটে।
চতুর্থবার আওয়ামী লীগের আজিজুল হককে হারিয়ে টানা চতুর্থবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, এবার ভোটের ব্যবধান ৪,৫৫৫।
একটি ইউনিয়নের গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে টানা দুই দশক ধরে অপরাজিত থাকা শুধু রাজনৈতিক শক্তির বিষয় নয়—এটি জনআস্থার প্রতিচ্ছবি।

শিক্ষার পথ, সাফল্যের ধারাবাহিকতা :

নুর আহমদ আনোয়ারীর জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায় তাঁর শিক্ষাজীবন। হ্নীলা শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিলে ২য় স্থান অর্জন, রঙ্গিখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিলে ২য় স্থান, কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে বিএ-তে ২য় স্থান, হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিলে ২য় স্থান এবং চট্টগ্রাম সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ১ম স্থান—তাঁর অধ্যবসায় ও একাগ্রতার প্রমাণ।

এখন তিনি নিজেই শিক্ষক থেকে অভিভাবক। হ্নীলা শাহ মজিদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পাশাপাশি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও পৃষ্ঠপোষক হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

মানবসেবায় অর্জন :

জনগণের ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছেন উন্নয়ন ও মানবসেবার মাধ্যমে। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে তাঁর কাজের ছাপ স্পষ্ট—রাস্তা, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ কিংবা সংস্কারে তাঁর অবদান রয়েছে।

তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেননি, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসংখ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রঙ্গিখালী ফাজিল মাদ্রাসা, ইসলামিয়া বালিকা কামিল মাদ্রাসা, কাঞ্জরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে শিক্ষার বিকাশে রেখেছেন দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়া সমীকরণ :

আজ তিনি শুধু একজন চেয়ারম্যান নন। কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন—আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে তিনি প্রার্থী হবেন। যদি তাই হয়, তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জেলা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে। দুই শক্তিশালী রাজনৈতিক মেরুর এই লড়াই সীমান্ত রাজনীতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

মানুষের চোখে অভিভাবক :

সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর পরিচয় ভিন্ন। কেউ তাঁকে চেয়ারম্যান বলে ডাকে, কেউ আবার অভিভাবক। হোয়াইক্যংয়ের এক প্রবীণ বাসিন্দা বললেন—
“আনোয়ারী চেয়ারম্যান আমাদের শুধু জনপ্রতিনিধি নন। তিনি মানুষের মতো মানুষ। তাঁর সততা ও ন্যায়পরায়ণতা মানুষের মনে আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ।”

সেবার রাজনীতি :

দুই দশকের রাজনীতিতে তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি—সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সেবার মানসিকতা। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতার রাজনীতিতে থেকেও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব। সীমান্ত জনপদ হোয়াইক্যং তাই তাঁকে মনে রাখছে শুধু একজন চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, একজন মানব সেবক, একজন আলোকিত অভিভাবক হিসেবেও।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com