
কক্সবাজারের টেকনাফে আন্তর্জাতিক হুন্ডি চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে আলোচনায় এসেছে শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়ার মৃত এবাদুল হকের ছেলে আবদুল গফুর (৫৫)। অভিযোগ রয়েছে, গফুর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ ও ইয়াবা ব্যবসার টাকা পাচার করে আসছেন। প্রশাসনের নজরদারি ও একাধিক মামলার পরও তিনি প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে এ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, সৌদি প্রবাসী গফুরের রয়েছে দেশ-বিদেশে ১০ থেকে ১২ জনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রভাবশালী সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ইয়াবা ডনের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি সীমান্তের হুন্ডি সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয়রা জানান, একসময় অসহায় থাকা গফুর মিয়ানমারের হুন্ডি গডফাদার মৌলভী বোরহানের বোনকে বিয়ে করার পর আর্থিকভাবে উত্থান ঘটে। এরপর থেকে তিনি দ্বীপ প্লাজা হোটেলে বসেই মিয়ানমারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করছেন।
গফুর সাবরাং ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা ও আত্মসমর্পণ করা ইয়াবা কারবারি রেজাউল করিম রেজু মেম্বারের ভাই। ইয়াবা কারবারিদের দেওয়া তথ্যে তার নাম পুলিশের তালিকাভুক্ত ২১ জন হুন্ডি সম্রাটের মধ্যে রয়েছে। অনেকে দেশ ছেড়ে পালালেও গফুর এখনো প্রকাশ্যে ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর গফুর দ্বীপ প্লাজায় গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দুলাল পাল ও তার ছেলে সুপন পালকে মারধর ও দোকান দখলের অভিযোগ ওঠে। এসময় দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট হয়। স্থানীয়রা জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মামলা নেয়নি।
ভুক্তভোগী সুপন পাল বলেন, “গফুর ও বশির প্রতিহিংসাবশত আমার বৃদ্ধ বাবাকে টেনে বের করে দোকান দখল করেছে।”
এ বিষয়ে গফুর দাবি করেন, “চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দোকানটি নিয়েছি, মারধর বা লুটের অভিযোগ মিথ্যা।” হুন্ডি ব্যবসার বিষয়েও তিনি অস্বীকার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট) অলক বিশ্বাস জানান, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুন্ডি চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন সবসময় তৎপর।”