এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করাসহ গুরুতর অভিযোগ আনলেন দলটির (পদ সাময়িক স্থগিত) কেন্দ্রীয় সংগঠক হাফেজ মুনতাসির মাহমুদ। রবিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়া এনসিপির এ নেতা তার পোস্টে বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি দল ঘোষণার দিন মুনতাসির রহমান নামে একজন এলজিবিটিকিউ অ্যাক্টিভিস্টকে যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে স্টেজেই নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজে এই নাম ঘোষণা করেছেন, এটা শতভাগ সত্য।
কেন তারা একজন সমকামী/গে অ্যাক্টিভিস্টকে দলে রাখল, এই বিষয়ে তাদের দলীয় স্ট্যান্ড কী, সেটা এনসিপি কখনো পরিস্কার করেনি বরং প্রশ্ন উঠলেই মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এনসিপিকে যে গে/সমকামী দল হিসাবে ফ্রেমিং করা হয়েছে, তার ৯৯ শতাংশ দায় তাদের নিজেদের। ধরে নিলাম যে, রাজনৈতিক বিভিন্ন বাস্তবতায় এটা পরিষ্কার করার সুযোগ ছিল না। তাহলে অন্তত আমার বিষয়টা বিবৃতি দিয়ে বলতে পারত যে এই মুনতাসির মাহমুদ আমি, কুরআনে হাফেজ এবং আমি এই মানসিকতার কেউ না।
কিন্ত দলের সর্বোচ্চ নেতাদের এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় বারবার বলার পরেও কিছু নেতার নোংরা মানসিকতা এবং সংকীর্ণতার কারণে তারা সেটা করে নাই। আমাকে এত জঘন্য মিথ্যা অপবাদ ও জীবনের হুমকির মধ্যে ফেলার ১০০ ভাগ দায় এনসিপির ওই নেতাদের।
তিনি আরো বলেন, আমি মুনতাসির মাহমুদ এবং ওই এলজিবিটিকিউ অ্যাক্টিভিস্ট মুনতাসির রহমান; ২ জনের সাথেই এনসিপি চরম অন্যায় করেছে। ওই মুনতাসির রহমানকে যদি শেষ পর্যন্ত দলে রাখার মুরোদ নাই থাকে, তাহলে কেন নাম ঘোষণা করে পরে বিনা নোটিশে বাদ দিয়ে তাকে অপমানিত করল? তাকে তো কেউ চিনতো না, তার এলজিবিটিকিউ পরিচয় সামনে এনে এবং এভাবে অপমান করে তার জীবনও হুমকির মধ্যে ফেলেছে এরা।
মুনতাসির মাহমুদ বলেন, কেন এত মিথ্যা, এত ভণ্ডামি? কেন জনগণের সাথে এতভাবে প্রতারণা করা লাগল এনসিপির? শুরু থেকেই দল পরিচালনায় চরম অসততা, সংকীর্ণতা, দুর্নীতি এবং যোগ্যতার বদলে ভাই ব্রাদার কোরামকে সামনে এনে, ত্যাগীদের মাইনাস করে এনসিপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সৃষ্ট দারুণ সম্ভাবনাগুলাকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছে।