1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
উখিয়া উপজেলা বিএনপির ৮ ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর কক্সবাজারে হেরোইন-আইসসহ আন্তঃজেলা মাদকচক্রের হোতা গ্রেপ্তার মহানগর থেকে বাইরে পাঠানো হবে অটোরিকশা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামুতে সিএনজির আসনের নিচে লুকানো ৮ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ঈদগাঁওয়ে ৮০০ টাকার পাওনা নিয়ে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সাগরে ১,৭০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ২০ ৩৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ টেকনাফের যুবক কক্সবাজার আলীর জাহালে আটক রোহিঙ্গাদের ভুলে গেলে সংকট আরও গভীর হবে: ইউএনএইচসিআর

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ: দেশে বাঁশের বাণিজ্য ৫০০ কোটি টাকার

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৮/০৯/২০২৫ ২:১৭ এএম

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস। আমাদের চোখে বাঁশ শুধু ঘরদোরের কাজে প্রয়োজন হয়, বাস্তবে এটি দেশের অর্থনীতিতে একটি বিশাল অবদান রাখছে। গ্রামীণ এলাকায় বাঁশের চাষ ও বেচাকেনা হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস। আর শহরে বাঁশের তৈরি আসবাব, চেয়ার, টেবিল, খেলনা ও অন্যান্য শিল্পপণ্য তৈরি হয়ে দেশ-বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

দেশে বাঁশের বাজারের মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি, যা প্রমাণ করে বাঁশ শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম অবলম্বন।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার যাদুরানী বাজারে প্রতি শুক্রবার সকালে ভিড় জমে যায় বাঁশ কিনতে আসা পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের। এই হাটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়, বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকা। শুধু যাদুরানী নয়, দেশের অর্ধশতাধিক বড় বাঁশের হাট একইভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রেখেছে।

বাঁশের বাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রেখেছে। রাঙামাটির বন বিভাগের হিসাবে শুধু ওই জেলা থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকার বাঁশ বিক্রি হয়। রাজশাহী অঞ্চলে বাঁশ বেচাকেনার বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে মানিকগঞ্জের স্থানীয় হাটগুলোতে মাসে ২৫ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়, যা বছরে প্রায় তিন কোটি টাকার সমান।

মৌলভীবাজারের কালারবাজারেও বছরে গড়ে দেড় কোটি টাকার বেশি বাঁশ কেনাবেচা হয়। এসব আঞ্চলিক বাজারের লেনদেন যোগ করলে সহজেই বোঝা যায়, দেশের বাঁশ অর্থনীতির বার্ষিক অঙ্ক ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ এখনো এটি আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের বাইরে।
বাংলাদেশে বাঁশ শুধু নির্মাণসামগ্রী হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না, বরং নানা ধরনের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসেও এটি অপরিহার্য। গ্রামীণ বাড়ির চালা, বেড়া কিংবা অস্থায়ী সেতু নির্মাণ থেকে শুরু করে ডালি, ঝুড়ি, চালুনি, হাতপাখা, খাটিয়া—সব জায়গাতেই বাঁশের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

কৃষিক্ষেত্রে ধান শুকানোর মাচা, ফসল বহনের ঝুড়ি, সবজি চাষে খুঁটি, এমনকি মাছ ধরার চাঁই বা ঝাঁকিও তৈরি হয় বাঁশ দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঁশের ব্যবহার আরো আধুনিক রূপ নিয়েছে। এখন বাঁশ থেকে তৈরি হচ্ছে ফার্নিচার, বাঁশ বোর্ড, বাঁশ কাগজ, এমনকি টেক্সটাইল ফাইবার। পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বাঁশের তৈরি স্ট্র, প্লেট, কাটলারিজ কিংবা টুথব্রাশও দেশে ও বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ থেকে বাঁশের তৈরি পণ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি রিশিপাড়া এলাকার হস্তশিল্পীরা বাঁশ ও বেতজাত পণ্য তৈরি করে ২৫টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছেন। প্রতিবছর এখান থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি আয় হচ্ছে। গাজীপুরেও কয়েকটি হস্তশিল্প কারখানায় মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকার বাঁশজাত পণ্য বিদেশে যাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে হস্তশিল্প খাতে ২৯.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার বড় অংশই বাঁশ ও বেতজাত পণ্য। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের এসব পরিবেশবান্ধব বাঁশজাত পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

বিশ্ব বাঁশ দিবসের সূচনা হয় ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বাঁশবিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে। আন্তর্জাতিক বাঁশ ও বেত সংস্থা (আইএনবিএআর) ১৮ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় পর্যায়ে দিবসটি পালিত হলেও জাতীয় নীতি নির্ধারণে বাঁশকে এখনো প্রান্তিক খাত হিসেবেই দেখা হয়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাঁশ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির এক অমূল্য সম্পদ। অর্ধশতাধিক বড় বাজারের লেনদেনের অঙ্কই যখন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন বোঝা যায় বাঁশ কেবল কৃষক-কারিগরের জীবিকা নয়, এটি হতে পারে জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী একটি খাত। বিশেষ করে রপ্তানি বাজারে বাঁশজাত পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যেখানে বাংলাদেশ আরো বড় অংশীদার হতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বাঁশ চাষ ও বাজারজাতকরণকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান তৈরি, কৃষক ও কারিগরদের প্রশিক্ষণ, বাঁশ প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ, এবং রপ্তানি সহায়তা বাড়ানো হলে বাঁশ অর্থনীতি বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও বৈদেশিক আয়—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশের অবদান এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন না এবং খাতটির সমস্যা ও সুযোগ সরকারের কাছে পর্যাপ্তভাবে তুলে ধরতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘বাঁশ খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং শুধু ঘরদোর বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নয়, বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্য তৈরির মাধ্যমে এটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। বাঁশের তৈরি পণ্য এরই মধ্যে দেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে, যা এই খাতের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা প্রমাণ করছে।’

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com