দৈনিক যায়যায়দিনের সাংবাদিক টেকনাফের আরাফাত সানীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উখিয়া অনলাইন প্রেস ক্লাব ও উখিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) বিকালে উখিয়া স্টেশনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে হয়রানি ও আটক করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। সাংবাদিক আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা দমনের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক আরাফাত সানী দীর্ঘদিন ধরে সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন। তার লেখনীতে ক্ষুব্ধ একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, আজ আরাফাত সানী—আগামীকাল আমাদের ফাঁসাতে পারে। তাই সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে উখিয়া থেকে শুরু করে সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে উখিয়া অনলাইন প্রেস ক্লাব ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। তারা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সাংবাদিক আরাফাত সানীর মুক্তি চাই, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত কর—এমন নানা স্লোগান দেন।
বক্তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের সংস্কৃতি চলতে পারে না। অবিলম্বে সাংবাদিক আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ঘোষণা দেন—সাংবাদিক আরাফাত সানীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে এক নিরীহ জেলেকে হত্যা করে তাকে ‘জলদস্যু’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নিহত জেলের পরিবার এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানালে সাংবাদিক হিসেবে আরাফাত সানী সেই অসহায় পরিবারের পক্ষে দাঁড়িয়ে সত্য ঘটনা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করেন।
ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল সাংবাদিক আরাফাত সানীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে জানা যায়। তাকে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার জন্য ভয়ভীতি, চাপ ও হয়রানি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে বাড়ি ফেরার পথে টেকনাফ জেটি এলাকায় তাকে নাটকীয়ভাবে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের মিথ্যা অভিযোগ এনে কোর্টে চালান দেওয়া হয়।