1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার মানব পাচার প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ কক্সবাজারের সাংবাদিকেরা টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আবু সিদ্দিক টেকনাফে গ্রেফতার যারা সংস্কার সংস্কার করে তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না: প্রধানমন্ত্রী ৩৩ মরদেহ সাগরে ফেলার লোমহর্ষক বর্ণনা দেওয়া রফিকুলকে প্রাণনাশের হুমকি নৌবাহিনীর অভিযান: মিয়ানমার পাচারকালে সিমেন্টসহ আটক ১১ জন, বোট জব্দ অ্যাডভোকেট শামীম আরা,নারী এমপি হয়ে ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছেন কক্সবাজারে ৫৪ টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ২৬ হাজার ৭৪৭জন : মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ

ডাকাত ও অপহরণ আতঙ্কের জনপদ টেকনাফ

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ০৯/১২/২০২৫ ৫:৪১ এএম

ডাকাত ও অপহরণ আতঙ্কের জনপদ কক্সবাজারের বিশাল জনপদ টেকনাফ। এদের হাতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শিশুরা অপহরণের শিকার হচ্ছে। টেকনাফের পূর্ব পাশে ৪ কিলোমিটার প্রস্থের নাফ নদ। ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোর অভ্যন্তরে এবং পশ্চিম পাশে লাগোয়া কয়েকটি পাহাড়ে কমপক্ষে ১২টি রোহিঙ্গা ডাকাত দল ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা গড়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সশস্ত্র এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লোকালয়ে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে। বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে লুটপাট করে যাচ্ছে। একের এক অপহরণের ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে কমপক্ষে আড়াইশ’ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের শিকার হচ্ছে প্রায় তিন শতাধিক। নিজের জানমাল রক্ষার্থে রাত জেগে স্থানীয়রা পাহারা দিলেও ঠেকানো যাচ্ছে না ডাকাতদের উপদ্রব। বন্ধ হচ্ছে না অপহরণ।

 

আমার সতেরো বছর বয়সী ছেলে মামুনকে অস্ত্রধারী এক ডাকাত ধরে নিয়ে গেছে। গত ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মুদি দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল সহজ সরল ছেলে মামুন। হঠাৎ দোকানটি ঘিরে ফেলে অস্ত্রধারী একদল ডাকাত। দোকানটার কাছে পাহাড়ি জঙ্গল। ওই জঙ্গল থেকে আট থেকে দশজন লোক বের হয়ে এসে দোকান ঘিরে ফেলে। মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। তারা দোকানে ঢুকেই টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে। এক পর্যায়ে দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া পাঁচ কিশোরকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। যদিও একজন কিশোর কৌশলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

বাকি চারজনের কোনো খোঁজ নেই। ছেলের চিন্তায় আমার স্ত্রী নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। দিন-রাত শুধু কান্না করছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা অছিউর রহমান আবেগতাড়িত হয়ে এ কথা বলেন। তার মতো অপহরণের শিকার অন্য তিন কিশোরের পরিবারেও একই অবস্থা। যদিও এই ধরনের পরিস্থিতি এলাকাটির বাসিন্দাদের জন্য মোটেও নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়।
তবে টেকনাফ থানার ওসি জানান, ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে সেনা-পুলিশ-বিজিবি’র যৌথ অভিযান চলমান।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফে আগেও বিভিন্ন সময় ডাকাত দলের উৎপাত ছিল। তবে সম্প্রতি লুট ও অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে। গত ছয় মাসে এখানে কমপক্ষে ত্রিশজনের মতো শিশু-কিশোর অপহরণের শিকার হয়েছে। গত এ বছরে কমপক্ষে আড়াইশ’ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃতদের ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অপহরণের প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে কম। অভিযোগ পেলেই পুলিশ সেগুলো তদন্ত করে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

অপহৃত পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩০ নভেম্বর আতঙ্কের ও বেদনায় রাত। ওইদিন সন্ধ্যায় মুদি দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল সতেরো বছর বয়সী ছেলে মামুনসহ তার ৫ বন্ধু। এমন সময় হঠাৎ দোকানের কাছে পাহাড়ি জঙ্গল থেকে ১০ জন অস্ত্রধারী ডাকাত দোকানটি ঘিরে ফেলে। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। অস্ত্রধারীরা দোকানে ঢুকেই টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে। এক পর্যায়ে দোকানে বসে থাকা পাঁচ কিশোরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে জঙ্গলে ঢুকে পড়ে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা অপহৃত কিশোর মামুনের বাবা অছিউর রহমান এসব কথা বলে জানান, ছেলেটা আমার নিরীহ। সেই ছেলেকে ওরা ধরে নিয়ে গেল। এখনো পর্যন্ত তার খোঁজ নেই। বাড়িতে তার মায়ের কান্নায় ঘরে থাকতে পারি না। প্রশাসনে কেউ ছেলেকে উদ্ধার করতে পারছে না। এখানকার বাসিন্দারের জন্য মোটেও কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয়। সন্ধ্যা হলে ঘর তালা ঝুলিয়ে বসে থাকেন। কখনো ডাকাত দল হামলে পড়ে। বাহারছড়ার বাসিন্দা রিয়াজুল হাসান খোকন জানান, এখানে ডাকাতি ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে।

অপহৃত ৫ বন্ধুর মধ্যে ১৩ বছরের কিশোর মোহাম্মদ শাহীন কৌশলে ডাকাতদলে চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতে আঁধারে জঙ্গলে লুকিয়ে পালিয়ে এসেছে। বাকিদের উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে।

অপহরণের শিকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের বাবা মোহাম্মদ হাসান জানান, চারদিন ধরে মোবাইলের দিকে তাকায় আছি। কত লাখ টাকা চায় কে জানে। তিনি জানান, দিন মজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। এর মধ্যে এত টাকা দেব কিভাবে।

অপহরণের ঘটনার দুই ঘণ্টা পর তেরো বছর বয়সী কিশোর শাহীন বাড়ি ফিরে এসে তার মাকে জড়িয়ে আতঙ্কে হাঁপাতে থাকেন। এরপরই অপহরণের ঘটনা খুলে বলে। অপহরণকারীদের হিং¯্রতার কথা তার মাকে জানায়। ওই কিশোরের মা ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনা জানার পর থেকেই তো বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। এর মধ্যে রাত আটটার দিকে দেখি ছেলে শাহীন ফিরে এসেছে। তখন সে আতঙ্কে হাঁপাছিল। কিন্তু সশস্ত্র ডাকাত দলের কাছ থেকে শাহীন কিভাবে পালিয়ে এলো। তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। শাহীনের মা জানান, তাদের ধরে নিয়ে অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্যে হাঁটার সময় ওদের মধ্য থেকে দু’জন দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

তাদের ধরার জন্য ডাকাতরাও পিছে পিছে দৌড় দেয়। ওই সুযোগে আমার ছেলেও কৌশলে অন্ধকার জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর হামাগুড়ি দিয়ে জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে আসে বাড়িতে। তিনি জানান, তার ছেলে বলে, পালানোর চেষ্টাকারী দুই বন্ধুকে ধরে ফেললেও তাকে জঙ্গলে খোঁজাখুঁজি করছিল ডাকাতরা। ওই অবস্থায় জঙ্গলের ভেতরে মাটিতে শুয়ে কষ্টে জঙ্গল পার হয়ে দৌড়ে বাড়িতে ছুটে আসে। ছেলেটা অন্য ছেলেগুলোর চেয়ে একটু ছোট বলে জঙ্গলের মধ্যে ডাকাতরা তাকে খুঁজে পায়নি।

টেকনাফের বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রিয়াজুল হাসান খোকন জানান, কক্সবাজারের টেকনাফে আগের তুলনায় সম্প্রতি লুট ও অপহরণ ঘটনা বেড়েছে। তিনি জানান, ডাকাতি তো নিত্যদিনের ঘটনা। গত একবছরে টেকনাফে কমপক্ষে আড়াইশ’ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। কম করে হলেও দুইশ’ মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছে। এখন আতঙ্কের নাম পাহাড়ি জঙ্গল ও সমুদ্র মাঝে ঘেরা বিশাল এই জনপদটি। সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এক উন্নয়ন কর্মী জানান, নিত্যদিন ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। প্রমাণ পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়নি। তাহলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? এ সপ্তাহেই টেকনাফে রোড ব্লক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই দিন দিন অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে। একেকটা ঘটনা ঘটার পর পর পুলিশ প্রশাসনের লোকজন আসার পর আর কোনো খোঁজ নেয় না। অপহৃত মামুনের বাবা অছিউর রহমান জানান, প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী বিক্ষোভ-আন্দোলন করেছে। তারপরও প্রশাসনের টনক নড়েনি।
সম্প্রতি যে ঘটনাটা ঘটল, তাতে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে, এখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নাই। সেজন্য এ সপ্তাহে টেকনাফে রোড ব্লক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানান উন্নয়নকর্মী খোকন।

 

নেপথ্যের নাটের গুরু ॥ পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি টেকনাফে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা বাড়ছে। এর মূল কারণ একপাশে সমুদ্র ও অন্যপাশে পাহাড় ঘেরা এই জনপদটিতে ডাকাতদের একাধিক দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নিরিবিলি এই জনপদে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ডাকাতদল এলাকায় বাসাবাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলা চালিয়ে লুটপাট চালাচ্ছে। অস্ত্রের মুখে বাড়ির তরুণ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অপহরণ করছে। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ডাকাতি ও অপহরণের এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জড়িত। ডাকাতি ও অপহরণের মামলায় অতীতে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শরণার্থী- উভয়ের জড়িত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। ওসি জানান, ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে সেনা-পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

কেন একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটছে ॥ টেকনাফের পূর্ব পাশে ৪ কিলোমিটার প্রস্থের নাফ নদ, এরপরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। সহজে ওপার থেকে ইয়াবা ও আইসের চালান আনা যায়। অন্যদিকে টেকনাফের হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ লাখ রোহিঙ্গার ১১টি আশ্রয় শিবির। আশ্রয় শিবিরগুলোর অভ্যন্তরে এবং পশ্চিম পাশে লাগোয়া কয়েকটি পাহাড়ে ১০ থেকে ১২টি রোহিঙ্গা ডাকাত দল ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা রয়েছে। তাদের ম্যানেজ করে চলে ইয়াবা-আইসের কারবার। চাঁদা না দিলে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

গত এক বছরে টেকনাফ থানায় অপহরণের মামলা হয়েছে ৫০টি। এসব ঘটনায় অপহৃত দেড়শত জনকে উদ্ধার করে টেকনাফ থানা পুলিশ।
টেকনাফ থানা ওসি জানান, এখানে যেসব অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সেটি ভিন্ন ধরনের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাদক ব্যবসার বিরোধের জের ধরে হচ্ছে। সেগুলো সব আসলে সেই ধরনের অপহরণ নয়। ওসি দাবি করেছেন, পুরনো মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে সেসব তথ্যই পাওয়া গেছে। তা হচ্ছে, মাদকের টাকার ভাগাভাগি, দেনা-পাওনার বিরোধের জের। এমন নানা কারণে বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে। তবে এর মধ্যেও কিছু সঠিক কেস আসছে। কিশোর অপহরণের যে ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। তাদের উদ্ধার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তবে স্থানীয়রা পুলিশের এমন দাবি মানতে নারাজ। তবে অল্পকিছু ঘটনার সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক থাকতে পারে। বাহারছড়ার বাসিন্দা রিয়াজুল হাসান খোকন জানান, মুক্তিপণের জন্য বেশিরভাগই অপহরণের ঘটনা ঘটছে। তবে পুলিশ বলছে, অপহরণের ঘটনা পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সেগুলো তদন্ত করে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাত জেগে পাহারা ॥ কক্সবাজারের টেকনাফে ডাকাত ও অপহরণ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় যুবকরা। রাত হলে ডাকাতের ভয়ে নিজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক লোকজন মসজিদে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে।

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়ি-ঘর পাহাড়সংলগ্ন হওয়ার সুযোগে দিন-রাতে ডাকাত ও অপহরণকারীরা লোকজনকে ধরে নিয়ে পাহাড়ে আটকে রাখছে। রাত হলে বাড়ি-ঘরে হামলার চেষ্টা, গুলি চালিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল্যবান কোনো জিনিস না পেলে বাসার লোকজনকেই অপহরণ করা হচ্ছে।

এতে রাত জেগে পাহারা দিতে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা জানান, অনেক নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ মসজিদসহ আশ্রয়যোগ্য নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। গত কয়েকদিন ধরে বাহারছড়ার শীলখালী ও চৌকিদারপাড়া এলাকায় পাহাড়ি ডাকাত ও অপহরণচক্র রাতে পাহাড় থেকে নেমে এসে লোকজনকে অপহরণ ও ডাকাতির চেষ্টা করছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ নির্ঘুম রাত কাটানোর পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com