রাজধানীর পুরানা পল্টনে মিছিলের পরিকল্পনা, রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৪ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আতাউর রহমান খান রুকু রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি আসামিদের জামিনের আবেদন জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাদের ফুটেজ দেননি বা দেখাননি। বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলে ঘটনাস্থলে আসামিরা আদৌ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হতো।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১৪ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টস গলির মুখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী অবৈধভাবে জড়ো হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং নাশকতার পরিকল্পনা করেন।
খবর পেয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ১৪ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের শনাক্ত, নাশকতায় অর্থায়নকারীদের পরিচয় উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন-ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা সরদার (৪১), মো. রাশেদ (২৮), ঢাকা ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীব (৪০), মো. সেলিম মিঞা (৫২), আব্দুস সামাদ রনি (৪৪), মো. মমিন হাওলাদার (৩৯), মো. জিহাদ (২০), রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সদস্য মহিউদ্দিন (৩৫), যুবলীগ কর্মী মো. রাহাদ (১৯), রাতুল (২২), মো. মারুফ (১৯), মো. রায়হান (১৯), সানি (২২) ও নাজমুল হাসান হৃদয় (২০)।
একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক চার শিশুকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।