দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে। দীর্ঘদিনের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির পর ১৬ অক্টোবর রাতে টেকনাফের সাবরাং মন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ১৯,২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ লক্ষাধিক টাকা নগদ অর্থ, দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে।
অভিযানে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি’র নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সদস্যের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অংশ নেয়। প্রায় আট ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশির পর বিজিবি সদস্যরা মাদক কারবারি মো. জুবাইর (৪০)-এর বাড়ির গোপন কুঠুরি থেকে ইয়াবার বিশাল চালান উদ্ধার করে।
অভিযান চলাকালে দেওয়াল টপকে পালানোর সময় আইয়ুব আলী (৩৭) নামে এক কারবারিকে আটক করা হয়। এছাড়া বাড়ির ভেতরে থাকা জুবাইরের স্ত্রী ফাইজা আক্তার (১৯)কেও গ্রেফতার করা হয়। মূল হোতা মো. জুবাইর পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় আগেও একটি মাদক মামলা রয়েছে।
তল্লাশিতে উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে—
ইয়াবা ট্যাবলেট ১৯,২০০ পিস, ইয়াবা পাউডার ১৩০ গ্রাম, নগদ অর্থ ১০,৩০,০০০ টাকা, ল্যাপটপ ০১টি, চাপাতি ০৭টি, চাকু ০৪টি, ওয়াকিটকি সেট ০২টি, সিসি ক্যামেরা ০৪টি, মাইক্রোফোন ০১টি, মোবাইল ফোন ০৫টি (২টি অ্যান্ড্রয়েড, ৩টি বাটন ফোন), পিতলের পাল্লা ০১টি, ল্যান্ড ফোন ০১টি, মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংক ০২টি এবং ইয়াবা প্যাকেজিং মেশিন।
বিজিবি জানায়, জব্দকৃত ব্যাংক লেনদেনের নথিপত্র থেকে ধারণা করা হচ্ছে—চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে মাদক পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“আপনাদের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে আমানত। যত শক্তিশালী চক্রই হোক না কেন, দেশের মাটি থেকে মাদক চোরাচালানের কালো ছায়া সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলার জন্য বিজিবির সকল সদস্য সদা প্রস্তুত ও অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের এই নিরলস পরিশ্রম মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়ার প্রত্যয়কে আরও মজবুত করবে।”
বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, আটককৃত ফাইজা আক্তার ও আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরপূর্বক টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।