কক্সবাজার জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানে চরম অনীহা। চলতি বছরের শুতেই দৈনিক তিন বিষয়ে পাঠদানের নিয়ম করে সাজিয়েছে ক্লাস রুটিন। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রধান শিক্ষকে দায়ী করছেন বেশ কিছু শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
স্কুল সূত্রে জানাগেছে, চলতি মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত স্কুলে কোনো পাঠদান হয়নি। সহকারী শিক্ষকদের চাপে প্রধান শিক্ষক ১৫ তারিখ প্রতিদিন মাত্র তিন বিষয়ে পাঠ দানের জন্য একটি ক্লাস রুটিন তৈরী করেন।
স্কুলে ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২০টি শাখায় পাঠদানের জন্য শিক্ষক প্রয়োজন হয় ৩০ জন। স্কুলে বর্তমান শিক্ষক রয়েছেন ৩৮ জন।
সূত্রটি আরও জানান, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তার পরে পবিত্র রমজান, এরপরে স্কুল কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাস পর্যন্ত স্কুলে শ্রেণি কার্যক্রম অনেকটা অচল অবস্থায় থাকবে। জুনের প্রথমার্ধে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শুরু হবে। গোটা পাঁচ মাস যদি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম সঠিক ভাবে না চললে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে কি ভাবে?
এদিকে পার্শ্ববর্তী হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্টানে নিয়মিত ৬ থেকে ৭ বিষয়ে পাঠ দান চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিভাবকরা জানান, বিগত সময়ে প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনের একই কর্মকান্ডের কারণে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা ও এসএসসির ফলাফল তলানীতে পৌছেছিলো। দ্বীর্ঘ বছর পর তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ফিরে এসে আগের কর্মকান্ড শুরু করেছে। ফলে গত বছর ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্টান এসএসসিতে লজ্জাজনক ভাবে ফলাফল
বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।
এই বিষয়ে টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসেন ‘বার্তা বাজার’কে জানান, বর্তমানে চার বিষয়ে পাঠদান হচ্ছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ৬ বিষয়ে পাঠদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষন করে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তার মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।