ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রতিদিন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে একাধিক পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির বার্তায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো আসন। বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী তার প্রচারণায় উন্নয়নকে মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নির্বাচিত হলে উখিয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করা হবে এবং টেকনাফ জেটিকে ঘিরে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নতুন অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এতে করে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পথসভায় শাহজাহান চৌধুরী তার অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করেন, তার সময়েই মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ, উখিয়া ও টেকনাফ কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এ সব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তিনি আবারও জনগণের সমর্থন চান। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার যুবকদের জন্য নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি এবং সীমান্ত এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী তার প্রচারণায় দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও নৈতিক নেতৃত্বের বার্তা দিচ্ছেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতি করবেন না এবং ‘ঘুষ-উপঢৌকন’ সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধ, সন্ত্রাস দমন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করছেন। জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া- টেকনাফে দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড মানুষের জীবনে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মাদক নির্মূল এবং জনসেবামুখী রাজনীতি চালু করবেন বলে দাবি করেন। দুই দলের প্রার্থীর ভিন্নধর্মী বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিতে উখিয়া-টেকনাফে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিনই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটারদের মতে, উন্নয়ন ও সুশাসনের এই প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখবেন তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিনই।