সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৩ জন এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৭ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক মিলে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগ দেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করে নেন।
দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জনের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য পদের ফরম পূরণ করে কাজ করতে থাকেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদানের ঘোষণা দেওয়া হলো।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শাহজাহান আলী জানান, এরা সবাই দীর্ঘ দিন ধরে পদপদবি বঞ্চিত হয়ে নিজ দলে নিষ্ক্রিয় ছিলো। এখন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির প্রতি আস্থা রেখে জামায়াতে যোগদান করেছেন। এটা দোষের কিছু না বলে তিনি মনে করেন।