1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জিনিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা চেয়ে আবেদন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ‍্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা অবশেষে র‍্যাবের জালে রাসেল হত্যা মামলার আসামি শাহজাহান উখিয়ায় সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার টেকনাফের বাহারছড়ায় মাদক, অপহরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে পুলিশ ফাঁড়ির জায়গা পরিদর্শনে এমপি শাহজাহান চৌধুরী; ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতির নির্দেশ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, সতর্ক থাকতে মাইকিং কক্সবাজারে ৬২ ইউপিতে ভোট, তফসিল চলতি মাসেই টেকনাফকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করলেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

টেকনাফে ট্রিপল মার্ডার:

স্ত্রীর পাতা ফাঁদে অপহরণ, অপহৃতদের হাতে প্রাণ গেল তিন অপহরণকারীর

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২১/০৪/২০২৬ ১০:৩৩ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালীর পাহাড়ে ঘটে যাওয়া তিন হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বেরিয়ে এসেছে।

মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করতে গিয়ে উল্টো অপহৃতদের হাতেই প্রাণ হারিয়েছে তিন অপহরণকারী। গোয়েন্দা ও স্থানীয় গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে এক দুর্ধর্ষ ও লোমহর্ষক কাহিনী।

ঘটনার সূত্রপাত: প্রলোভন ও অপহরণ

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিহত ডাকাত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কৌশলে ৫ জন রোহিঙ্গাকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাহারছড়ার পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ‘মোর্শেদ গ্রুপ’-এর সদস্যরা তাদের হাত-পা বেঁধে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ৫ জনের মধ্যে একজন কৌশলে পালিয়ে গিয়ে গ্রামের একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও বাকিদের অস্ত্র ঠেকিয়ে পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায় মুজিব ও মোর্শেদ।

পরদিন ১৯ এপ্রিল, মুজিবের স্ত্রী একইভাবে আরও ৩ জন রোহিঙ্গাকে কৌশলে অপহরণের উদ্দেশ্যে একই স্থানে নিয়ে আসে।

সারারাত নির্যাতন ও ভিকটিমের পাল্টা আক্রমণ

২০ এপ্রিল দিনগত সারারাত অপহৃতদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় চার অপহরণকারী— মুজিব, নূরুল বশর, মোর্শেদ ও রবি আলম। ভিকটিমদের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ফজরের আজানের পর অপহরণকারী মুজিব, নূরুল বশর ও রবি আলম ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

ঠিক তখনই সুযোগ কাজে লাগায় অপহৃতরা। ভাগ্যক্রমে এক ভিকটিম তার হাতের বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হন। নিজের এবং সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে তিনি ঘুমন্ত তিন অপহরণকারীর মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর দ্রুত তারা পাহাড় ত্যাগ করেন।

স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ

জানা গেছে, ঘটনার পর চৌকিদার পাড়া এলাকা দিয়ে ৫ জন ব্যক্তিকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় পাহাড় থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, এরাই সেই অপহৃত ব্যক্তি যারা অপহরণকারীদের হাত থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

এক নজরে ঘটনার মূল পয়েন্টসমূহ:

ঘটনার হোতা: নিহত ডাকাত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী (যিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোক সংগ্রহ করতেন)।
মূল অপরাধী চক্র: মোর্শেদ গ্রুপ।

নিহত অপহরণকারী: মুজিবুর রহমান, নূরুল বশর ও রবি আলম।

বেঁচে ফেরা: মোর্শেদ নামক অপহরণকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাকি তিনজন অপহৃতদের পাল্টা আক্রমণে নিহত হয়।

এই ঘটনায় পুরো বাহারছড়া ও উত্তর শিলখালী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে এসব ডাকাত দলের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: টিটিএন

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com