1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ‍্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা অবশেষে র‍্যাবের জালে রাসেল হত্যা মামলার আসামি শাহজাহান উখিয়ায় সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার টেকনাফের বাহারছড়ায় মাদক, অপহরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে পুলিশ ফাঁড়ির জায়গা পরিদর্শনে এমপি শাহজাহান চৌধুরী; ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতির নির্দেশ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, সতর্ক থাকতে মাইকিং কক্সবাজারে ৬২ ইউপিতে ভোট, তফসিল চলতি মাসেই টেকনাফকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করলেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পেকুয়ার আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিফাত টেকনাফে গ্রেপ্তার

ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৩/০৯/২০২৬ ২:০৬ পিএম

সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইয়াবার চালান শহর কিংবা দেশের অন্য এলাকায় পৌঁছানোর আগেই আটকে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পরিকল্পনা করছে পুলিশ। কক্সবাজার ও বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।

প্রস্তাবিত এসব চেকপোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে সিসিটিভি, গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার এবং মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড। পুরো ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৩২১ জন পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গত ২৭ জুলাই প্রস্তাবটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিচিত ও সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারি এবং তাদের সহযোগীদের ছবি এআই ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে। তারা তল্লাশিচৌকির আওতায় এলে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে গাড়ি কিংবা লাগেজে লুকিয়ে রাখা মাদক ধরতে ব্যবহার করা হবে স্ক্যানার। প্রয়োজন হলে কাজে লাগানো হবে ডগ স্কোয়াড। সীমান্তের পাশাপাশি নজর থাকবে শহরে ঢোকার পথেও

পুলিশের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী, সমুদ্রপথ এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িকে ইয়াবা প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, শুধু সীমান্তে নজরদারি যথেষ্ট নয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর পাচারকারীরা পাহাড়ি ও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে মাদক বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। তাই এসব পথ মূল সড়কের সঙ্গে যেখানে মিলেছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে রাংকুট বৌদ্ধবিহার, পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু ও রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার সড়ক, চকরিয়ার হারবাং সড়ক, নাইক্ষ্যংছড়ির বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড়, বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড় এবং গর্জনিয়ার ডাকবাংলো মোড়।

১১টি প্রস্তাবিত তল্লাশিচৌকির মধ্যে কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের এই পয়েন্ট দিয়ে কক্সবাজার শহর ও পর্যটন এলাকায় মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বড় নজরদারিবলয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এখানে তিন পালায় দায়িত্ব পালনের জন্য ৪২ পুলিশ সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ডগ স্কোয়াড, একটি লাগেজ স্ক্যানার, একটি ভেহিক্যাল স্ক্যানার, তিনটি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা ও ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১১টি চেকপোস্টে ৩১টি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সঙ্গে থাকবে ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিন ও আটটি লাগেজ স্ক্যানার।

ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানারের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা—মোট ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আটটি লাগেজ স্ক্যানারের প্রতিটির দাম ৪৫ লাখ টাকা হিসেবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এআইভিত্তিক ফেস ডিটেকশন সফটওয়্যারের জন্য ৫ লাখ এবং ২৩টি ৬৫ ইঞ্চি টেলিভিশনের জন্য ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের পরও ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে।

পুলিশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সীমান্ত অতিক্রম করার পর ইয়াবার চালান যেন বিকল্প বা পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে কক্সবাজার শহরসহ দেশের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো প্রস্তাবটি এখনো পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com