কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র মামলার একাধিক পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। শুক্রবার ও শনিবার পরিচালিত এসব অভিযানে মোট তিনজন দুর্ধর্ষ আসামিকে আটক করা হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের কক্সবাজার সরকারি কলেজ এলাকা থেকে হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এবং একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলিম উল্লাহ ওরফে ‘কলিম ডাকাত’কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের তোতকখালী এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।
র্যাব জানায়, কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্রসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে টেকনাফ মডেল থানাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক মো. জাকারিয়া (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি লেদা ক্যাম্প এলাকার শফিক আহম্মদের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের উত্তর মহুরীঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফজল কাদের ওরফে ‘ফজইল্যা ডাকাত’ (৫২)কে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, তিনি ওই এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও দাঙ্গাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র মামলায় আদালতের দেওয়া সাজা এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাকে মহেশখালী থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।