1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
টেকনাফ দোয়েলকার মালিক সমিতির সেক্রেটারী শহিদ ৮ হাজার ইয়াবাসহ আটক জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই, প্রতারণার বাজেট: এনসিপি চট্রগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আটক: উখিয়ার বক্তার মেম্বারের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ জামায়াত ও আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে অর্ধশত গাছ কাটার অভিযোগ ৪১০ লিটার মদ তৈরির উপকরণসহ ব্রাজিল সমর্থক গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কান্না সহ্য করতে না পেরে দুই মাসের শিশুকে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলেন বাবা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ, সব দাবি পূরণ হয়েছে: ট্রাম্প এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর: নাহিদ ইসলাম চকরিয়া রেলস্টেশনে ছিনতাই আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রী

চকরিয়া রেলস্টেশনে ছিনতাই আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রী

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১২/০৬/২০২৬ ২:৫২ পিএম

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ। এ রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চকরিয়া। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এ স্টেশনকে ঘিরে মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা ও আলীকদমসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই স্বপ্নেই নেমে এসেছে নিরাপত্তাহীনতার অভাব।

বর্তমানে চকরিয়া রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে ছিনতাই, চুরি এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনা। সন্ধ্যা হলেই যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন নারী-শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা। গত বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান হাফেজ তাওকিবুল ইসলামসহ দুইজন যাত্রী। তাওকিব চট্টগ্রামের শুলকবহর মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে চকরিয়া রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। এর দুই দিন আগেও নয়ন নামের আরেক ছাত্র এবং তারও আগে রইসুল নামে আরেক ছাত্র ছিনতাই ও হামলার শিকার হন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিরাতেই ঘটছে কোনো না কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা।

দুই মাসে ২৫টির বেশি ছিনতাই : রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে চকরিয়া রেলস্টেশন এবং এর সংযোগ সড়কগুলোতে অন্তত ২৫টির বেশি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অনেক ভুক্তভোগী ঝামেলা ও আইনি প্রক্রিয়ার ভয়ে থানায় অভিযোগ করেন না।

অ্যাপ্রোচ সড়কেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি : স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় তুলনামূলক নিরাপত্তা থাকলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়কগুলো। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব, নিয়মিত টহলের ঘাটতি এবং নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে সন্ধ্যার পর সক্রিয় হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যাত্রীদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নেই রেলওয়ে পুলিশের ফাঁড়ি : চকরিয়া রেলস্টেশন চালুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এখানে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়নি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর’ও (আরএনবি) দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় অংশই স্থানীয় থানা পুলিশের ওপর নির্ভরশীল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী জিআরপি ফাঁড়ি স্থাপন, আধুনিক সিসিটিভি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সংযোগ সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা এবং যৌথ নিরাপত্তা টহল চালু করা জরুরি। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘মাতামুহুরী ফাঁড়ির পুলিশ রামপুর এলাকায় নিয়মিত টহল দেয়। কোনো ঘটনার খবর পেলে থানা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়।’

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাঁড়ির পুলিশ অনেক সময় রেলস্টেশন সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল না দিয়ে অন্যত্র অবস্থান করে ফিরে যায়। ফলে কিশোর গ্যাংসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র নির্বিঘ্নে ছিনতাই চালিয়ে যাচ্ছে।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com