বিনা অনুমতিতে অফিসের মালামাল, গ্যাস সিলিন্ডার ও ট্রাঙ্ক চুরির অভিযোগে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’-এর সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আশরাফুল মামুনের (৪০) বিরুদ্ধে ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রেজওয়ানা আক্তার জাহান বাদী হয়ে এ মামলা (মামলা নম্বর: ৮) দায়ের করেন।
পেনাল কোডের ৩৮১ ধারায় কর্মচারী কর্তৃক চুরির অভিযোগে মামলাটি রুজু করা হয়। ঘটনার পর আশরাফুল মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আশরাফুল মামুন পূর্বে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৬ আগস্ট তাকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে অন্য শাখায় বদলি করা হলেও তিনি নতুন পদে যোগ না দিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে অফিসের মালামাল নিয়ে যান।
প্রথম ঘটনা: শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৬ টা ১৫ মিনিটে ছুটির দিনে আউটসোর্সিং গাড়িচালক মো. আবুল কালামকে নিয়ে ট্রাস্টের অফিসিয়াল গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো চ-১০-১৭০১) করে নিজের বর্তমান ঠিকানায় যান আশরাফুল মামুন। পরে দুপুর পৌনে ২ টায় পুনরায় ধানমন্ডি ১২/এ রোডস্থ ট্রাস্টের অফিসে এসে পৌনে ৩ টায় বড় ৪টি বস্তা ও কয়েকটি ব্যাগভর্তি মালামাল গাড়িতে তুলে অফিস ত্যাগ করেন।
দ্বিতীয় ঘটনা: মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে চুরির কাজে ব্যবহৃত ট্রাঙ্কটি অফিসের করিডোর থেকে ট্রাস্টের ড্রাইভার শামীম মৃধার মাধ্যমে ময়মনসিংহে নিজের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।
তৃতীয় ঘটনা: শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল ৫টার একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ট্রাস্টের ৪টি গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে আসে।
আনসার সদস্য চালককে জিজ্ঞাসা করলে জানান, মালামালগুলো গাবতলী নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ২৫ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে দফায় দফায় ট্রাস্টের মালামাল, ট্রাক ভর্তি মালামাল ও ৪টি গ্যাস সিলিন্ডার সরানোর ঘটনাটি সামনে আসলে প্রথমে ১৩ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৭৬) করা হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ও আলোচনার ভিত্তিতে গতরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে দায়ের করা হয়।
ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।