দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুল ইসলাম (দানু) ও প্রতিবেদক শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উখিয়া ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আরাফাত হোসেন চৌধুরী বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (উখিয়া) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি একজন শিক্ষিত ও নিরীহ ব্যক্তি। উখিয়া ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি কোর্টবাজার স্টেশনে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলা ও হামলার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিরা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশে জড়িত। চাঁদা না পেলে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে দ্বিতীয় আসামি শাহেদ ফেরদৌস হিরু ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় ২০ জানুয়ারি দৈনিক *সকালের কক্সবাজার* পত্রিকার প্রথম পাতায় বাদীর বিরুদ্ধে “উখিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা আরাফাতের নেতৃত্বে ১২২ বস্তা মাছ লুট—১০০ বস্তা ফেরত, বাকি ২২ বস্তা নিয়ে ধোঁয়াশা” শিরোনামে একটি মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে দাবি করা হয়, প্রকাশিত সংবাদটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি বাদীর পেশাগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মারাত্মকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন।
মামলার বাদী আরাফাত হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমি একজন কলেজের প্রভাষক ও ব্যবসায়ী। বিএনপি করার কারণে অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আমার ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ানুল হক বলেন, “আমার মক্কেল একজন সৎ ও সম্মানিত প্রভাষক ও তরুণ রাজনীতিবিদ। সাংবাদিক পরিচয়ে আসামিরা যোগসাজশে তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আমরা আইনের মাধ্যমে প্রতিকার প্রত্যাশা করছি।”