চলতি এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাসজুড়ে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, নারী ও সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে খোলা মাঠে কাজ করার সময়, গবাদিপশু আনতে গিয়ে কিংবা বাড়ির উঠানে অবস্থানকালে।
গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দেশের একাধিক জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর ও হবিগঞ্জ জেলায় এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেকেই ধান কাটার কাজে মাঠে ছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড় শুরু হলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে না পারায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এরপর শনিবার (২৬ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির সময় আরও অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে গাইবান্ধা জেলায়। জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। তারা কেউ মাঠে কাজ করছিলেন, কেউ গবাদিপশু আনতে গিয়েছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। তারা ধান কাটার সময় মাঠে ছিলেন। জামালপুরে পৃথক ঘটনায় দুজন মারা যান। একজন গরু আনতে গিয়ে এবং আরেকজন বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হন। নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ধান কাটার সময় একজন শ্রমিক মারা যান। বগুড়ায় ছাগল আনতে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়। পঞ্চগড়ে চা বাগানে কাজ করার সময় একজন শ্রমিক নিহত হন। এছাড়া শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মাঠে কাজ করার সময় এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে।