কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রদানকে কেন্দ্র করে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন নতুন ভোটাররা। নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে প্রায় ১৫ দিন অতিক্রম হলেও ‘সার্ভার সমস্যা’র কথা বলে সেবা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছবি ও বায়োমেট্রিক সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের সময় নির্ধারণ করে একটি করে স্লিপ প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটারকে গত ২৯ জুলাই ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার দিন ধার্য করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত দিনে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েও প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ফিরে যেতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এরপর থেকে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হলেও কার্যালয় থেকে কেবল ‘সার্ভার জটিলতা’র কথা বলা হচ্ছে। সার্ভার সচল হলে কার্যালয় থেকেই মুঠোফোনে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও বিগত তিন সপ্তাহেও কোনো সুরাহা পাননি তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম মহীউদ্দিন অ্যাপেন্ডিসাইটিসজনিত অসুস্থতার কারণে প্রায় ২০ দিন ধরে চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন। কার্যালয়ে সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহরিন সুলতানা নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও সেবা চাইতে গেলে তিনিও একই অজুহাত দিচ্ছেন। এতে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম মহীউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আবেদনকারীরা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না পাওয়ায় ব্যাংকিং, প্রাতিষ্ঠানিক ভর্তি ও সরকারি বিভিন্ন জরুরি সেবা গ্রহণে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে কারিগরি জটিলতা নিরসন অথবা বিকল্প উপায়ে ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নতুন ভোটাররা ।