1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা কক্সবাজারে নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের ৪ সদস্যকে নিয়ে নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১ টাকা না দিলে বাড়ির হাঁস-মুরগি নিয়ে যান, ঘর ভেঙে দেন বনরক্ষী কামাল হোসেন অশ্রুজলে ২৫ আগস্ট স্মরণ: বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট চাইলো লাখো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘দুনিয়াত্তু বিচার চাই’-নিজ দেশে ফেরার আকুল আকুতিতে মুখরিত উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প রোহিঙ্গাদের প্রতি আরাকান আর্মির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার অধিকার রয়েছে: ১৬ কূটনৈতিক মিশন একরামুল হত্যা: সাবেক এমপি বদি ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ ট্রাইব্যুনালে

টাকা না দিলে বাড়ির হাঁস-মুরগি নিয়ে যান, ঘর ভেঙে দেন বনরক্ষী কামাল হোসেন

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ২৫/০৮/২০২৬ ৮:৪৩ পিএম

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের বনরক্ষী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গরিব ও অসহায় মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি, চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

এ ছাড়া তার মূল পোস্টিং দোছড়ি বিটে থাকলেও কোনো লিখিত বদলি বা পদায়ন আদেশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে দুই বছর ধরে তিনি থাইংখালী বিটে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থাইংখালী বিটে আসার পর থেকে বনরক্ষী কামাল হোসেন বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের বাগান থেকে কলা, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে গিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি থাইংখালীর তেলখোলা কলাবাজার এলাকায় প্রায় ২০ বছরের পুরোনো একটি ঘর ভাঙতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বনরক্ষী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ঘরের মালিক ভুক্তভোগী হাফেজ আহমদ বলেন, “আমার ঘরটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বানানো। বনরক্ষী কামাল একাধিকবার এসে আমার কাছে টাকা চেয়েছেন। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু পরদিন আমার স্ত্রী-সন্তানরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি এসে ঘর ভাঙতে শুরু করেন।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “টাকা না দিলে বাড়ির হাঁস-মুরগি, চাল-ডাল নিয়ে যান। গরিব মানুষ হওয়ায় আমরা প্রতিবাদও করতে পারি না।”

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা দিতে না পারলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করা হয়। তার দাবি, বনরক্ষীর চাহিদামতো টাকা দিতে না পারলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিট কর্মকর্তার অগোচরেই বন বিভাগের পরিচয় ও ক্ষমতা ব্যবহার করে অসহায় মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং টাকা দাবি করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় এলাকায় বনরক্ষী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, “মাঠপর্যায়ে বন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন কামালের মতো অসৎ বনরক্ষীরা। তার বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়।” এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে বাগানমালিক পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে বনরক্ষী পদে যোগ দেন কামাল হোসেন। তার মূল পোস্টিং দোছড়ি বিটে। পরে মৌখিক নির্দেশে তাকে থাইংখালী বিটে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে থাইংখালীতে তার লিখিত বদলি বা পদায়ন আদেশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বনরক্ষী কামাল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে হয়রানি ও চাঁদা দাবির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বনরক্ষী কামাল হোসেনের পোস্টিংয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা বনরক্ষী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবি, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে মূল কর্মস্থল দোছড়ি বিটে ফেরত পাঠানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা। সূত্র: উখিয়া নিউজ

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com