কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাহাড়ি এলাকা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন উদ্ধার হওয়া একজন আহত ব্যক্তি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশ থেকে একজনের মরদেহ ও দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে বড় লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি এলাকা থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার বাসিন্দা মোক্তার আহমদ (৪৮) এবং আমতলী ঘোনা এলাকার কালু ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ আকবর প্রকাশ আব্বুইয়া (৩০)।
আহতরা হলেন—হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোছনের ছেলে মো. ইলিয়াস এবং একই এলাকার আলী আহমদ। তবে আহতদের বয়স ও পরিচয় নিয়ে প্রাথমিক তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ ও দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুপুরে বড় লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি এলাকা থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
উদ্ধার হওয়া আহত ইলিয়াসের দাবি, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরের পথে ডাকাত দলের সদস্যরা চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হলেও বাকি ৩০ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ইলিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে তাদের চারজনকে বিচারের কথা বলে হ্নীলার একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেন। ওই গ্রুপের সদস্যদের হাতে অস্ত্র ছিল। পরে তাদের পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এতে মোক্তার আহমদের মৃত্যু হয়। এ সময় দুজন আহত অবস্থায় উদ্ধার হলেও আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। ইলিয়াসের দাবি, ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলার এক মাদক কারবারি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে একজনের মরদেহ ও দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে দুপুরে বড় লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি এলাকা থেকে দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।