দুনিয়ার জীবনে মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে জীবন যাপনকারীরা পরকালে পুরস্কার হিসেবে জান্নাত লাভ করবে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, জান্নাতে মানুষের বয়স ও শারীরিক গঠন কেমন হবে? দুনিয়ার মতোই থাকবে? নাকি ভিন্নরকম হবে? এই বিষয়ে হাদিসে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। তা উল্লেখ করা হলো।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের শরীরে লোম থাকবে না, দাড়ি-গোফও থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক। (সুনানে তিরমিজি)
জান্নাতে দুনিয়ার এই দৈহিক কাঠামো থাকবে না। জান্নাতের বিশাল রাজ্যে রাজত্ব করার জন্য জান্নাতি সাজে জান্নাতবাসীদের দেহ সাজানো হবে। সেখানে নতুন দেহ, নতুন বয়সে নতুনভাবে মুমিনরা নিজেদের আবিষ্কার করবে। জান্নাতবাসীদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ৬০ হাত।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ আদম (আ.)-কে তার যথাযোগ্য গঠনে সৃষ্টি করেছেন, তার উচ্চতা ছিল ৬০ হাত। তিনি তাকে সৃষ্টি করে বলেন, তুমি যাও। উপবিষ্ট ফেরেশতাদের এই দলকে সালাম করো এবং তুমি মনোযোগসহ শুনবে তারা তোমার সালামের কী জবাব দেয়। কারণ এটাই হবে তোমার ও তোমার বংশধরের সম্ভাষণ।
তাই তিনি গিয়ে বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম।’ তারা জবাবে বলেন, ‘আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ।’ তারা বাড়িয়ে বলেন, ‘ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বাক্যটি। তারপর নবীজি (সা.) আরও বলেন, যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদম (আ.)-এর আকৃতিবিশিষ্ট হবে। তার পর থেকে এ পর্যন্ত মানুষের আকৃতি ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। (সহিহ বুখারি)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, মানুষ হজরত আদম (আ.)-এর আকৃতিতে অর্থাৎ ৬০ হাত দৈর্ঘ্যরে দেহ নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর এই দেহ শক্তিমত্তার দিক থেকে দুনিয়ার দেহের চেয়েও ভিন্ন হবে।
লেখক : শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক