আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণ চুক্তির আওতায় যেসব শর্ত জুড়ে দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘যথোপযুক্ত’ নয় বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তার ভাষ্য, জনগণের প্রতি ‘দায়বদ্ধতা’ থেকে সরকার আইএমএফ এর সব কথা মানতে পারবে না।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনায় কথা বলছিলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে বেশিরভাগ উন্নয়ন সহযোগীরা একমত। তারা আমার উন্নয়ন সহযোগী। ওরা যদি আমার সঙ্গে একমত না হয়, আমি তো এগোতে পারব না।
“সব জায়গায় আমরা একমত হচ্ছি না। অনেক জায়গায় দ্বিমত হচ্ছে, আইএমএফ-এর সঙ্গে দ্বিমত হচ্ছে। কারণ আইএমএফ যে শর্ত দিচ্ছে ওটা আমার অর্থনীতির জন্য, জনগণের জন্য সুইটেবল না।”
আইএমএফ এর শর্তের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান জারি রাখার ব্যাখ্যায় আমির খসরু বলেন, “আমরা নির্বাচিত সরকার। আমাদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা আছে। তাদের কথা মত আমরা তো সব করতে পারব না।
“তাই কিছু বহুপক্ষীয় সংস্থার সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতপার্থক্য চলতে থাকবে। কিন্তু আমি আমার কোর্স কারেকশন করব ততটুকু, যতটুকু আমার ইশতেহারের সঙ্গে থাকবে। এর বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব না।”
আইএমএফের সঙ্গে করা ঋণ চুক্তির বাকি অর্থ ছাড় করা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে নিতে আইএমএফের ‘ইতিবাচক’ মনোভাব রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ডিসিতে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এখনও আলোচনা (অর্থ ছাড়) চলছে। আলোচনার মধ্যে যেগুলো এখনও সমাধান হয়নি, সেসব সমাধান হবে।”
এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর এসে আইএমএফের শর্ত না মানার দিকে সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন আমির খসরু। অথচ আগের ঋণের সঙ্গে আরো ২০০ কোটি ডলার চাইছিল বাংলাদেশ।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় এ অর্থ চাওয়া হয়। তবে এর জন্য আইএমএফ সেসব শর্ত দিয়েছে, তা চলমান ঋণ চুক্তিতে থাকা শর্তের চেয়েও কঠিন বলে খবর এসেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থিক সংকট সামাল দিতে কয়েক দফা আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুনে ঋণের অর্থ ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে নিলে মোট ঋণের আকার ৫৫০ কোটি ডলার হয়।
এর মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। ষষ্ঠ কিস্তি ও অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের সময় ছিল গত বছরের ডিসেম্বর।
তখন আইএমএফ জানায়, ঋণের অবশিষ্ঠ অর্থ ছাড় করা হবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে।
সেই অর্থ ছাড়ের আগে এখন ঋণের শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখতে চায় আইএমএফ। তবে রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি।