নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এদেশসহ সারা বিশ্বে ইসলামের প্রচার-প্রসারে অবদান রাখছেন আউলিয়ায়ে কেরাম। সুফীবাদ ও আধ্যাত্মিকতাই ইসলামের মূল নির্যাস। যারা সুফিবাদী মানববাদী ইসলামকে ধারণ করে না, তারাই মূলত বিপথগামী ও উগ্রবাদী। ৭১-এর পরাজিত শক্তির হাতে দেশ যেমন নিরাপদ ছিল না, তেমনি বর্তমান সময়ে জামায়াতের কাছে দেশের নারীও নিরাপদ না। যে দলের এমপি হোটেলে নারী নিয়ে ধরা খায়, তাদের দলকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সারাদেশে মাজার, খানেকায় হামলায় জামায়াতের অনন্য ভূমিকা ছিল। তারা দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত সুন্নী পীর মাশায়েখ ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সুফিবাদী সুন্নী মহাসমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন।
মহাসমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলাম নির্দেশিত শান্তি, সাম্য, সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক হচ্ছেন ওলী বুজুর্গগণ। তাঁদের মাজার-খানকাহগুলো ইসলামের উদারনৈতিক শান্তির দর্শন সর্বত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাই প্রকৃত ওলী বুজুর্গদের কোনো শত্রু বা প্রতিপক্ষ থাকতে পারে না। মাজার-খানকাহগুলো দেশবাসীর হৃদস্পন্দন ও অস্তিত্বের নিদর্শন। তাই এসব পবিত্র স্থাপনার ওপর বর্বর হামলা আর বরদাশত করা হবে না। শান্তি, সহিষ্ণুতা, কল্যাণ ও শুভ্রতার প্রতীক ওলী-বুজুর্গ এবং তাঁদের পবিত্র স্থাপনা মাজার-খানকার বিরুদ্ধে যারা বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ায় এবং ওলী-বুজুর্গদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারাই মূলত ইসলাম ও মানবতার শত্রু। জামায়াতিদের নারী কেলেংকারিসহ নগ্ন মুখোশ আজ দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ উগ্রবাদী সহিংসপন্থী তথাকথিত ইসলামের বিপরীতে নবী-ওলীদের প্রদর্শিত মানবিক ইসলামকে বিকশিত করার আহ্বান জানান। মহাসমাবেশে সুফিবাদী সুন্নী মহাসমাবেশে দেশব্যাপী আউলিয়ায়ে কেরামের মাজার-খানকায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ থামানো, নারী-শিশু নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ এবং মদ, জুয়া, গাঁজাসহ সকল প্রকার মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবি জানানো হয়।
মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শাইখুল হাদীস আল্লামা কাযী মুঈন উদ্দিন আশরাফী বলেন, যারা তৌহিদি জনতার স্লোগান দিয়ে মাজার-খানকায় হায়েনার মতো হামলা করেছে, জাতির নিকট তাদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে। কেবল তৌহিদে বিশ্বাস নয়, শানে রেসালত ও শানে বেলায়তের ওপরও আস্থা-বিশ্বাস রাখাই একজন মুসলমানের প্রকৃত পরিচয়। যারা মাজার, খানকা, নবী-ওলীবিদ্বেষী, ওরা (জামায়াতি) প্রকৃত ইসলামপন্থি নয়, বরং জঙ্গি ও উগ্রবাদী।
সুফীবাদী সুন্নী মহাসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ড. আল্লামা সৈয়দ এমদাদ উদ্দীন নিজামপুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন পীরে ত্বরিকত আবুল ফারাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
মহাসমাবেশে সারা দেশ থেকে আসা সুন্নী দরবারের পীর ও উলামা-মাশায়েখের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন, আল্লামা সৈয়দ অসিয়র রহমান আলকাদেরী, পীর সিরাজুল আমিন রেজভী, স উ ম আব্দুস সামাদ, প্রিন্সিপাল ফারাহ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন, শাইখ আল্লামা উসমান গনী সালেহী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, আবু সুফিয়ান খান আবেদী, আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক, গাজী শফিউল আলম নেজামি, পীর ওয়ালিউল্লাহ আশেকি, পীর গোলাম মহিউদ্দিন লতিফি, পীর মাওলানা আব্দুর রহমান, পীর শাহ হাফেজ মুফতি হাসানুজ্জামান, পীরজাদা মুজাফফর আহমদ, পীর গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, মাসউদ হোসাইন কাদেরি, পীরজাদা এয়ার মোহাম্মদ পেয়ার, প্রিন্সিপাল সাইদুর রহমান মুনাজেরি, মিসবাহ উদ্দিন লতিফি, কাজি ইসলাম উদ্দিন দুলাল, আব্দুল ওয়াদুদ, প্রিন্সিপাল আবু জাফর হেলাল উদ্দিন, ড. ছদরুল আমিন, ড. মাহবুবুর রহমান, পীর শাহ মাখদুর পরান কাদেরি, পীর শামুনুর রশীদ মুনিরি, নুর মুহাম্মদ কাদেরি, পীরজাদা গোলাম দস্তগীর, পীরজাদা আব্দুর রহিম মুনিরি, পীরজাদা কুতুব উদ্দিন বখশি, পীর নাসির বিল্লাহ রব্বানি, পীর সাইফুল্লাহ জালালী, পীরজাদা আব্দুল কাদের চানমিয়া, মহিউদ্দিন হামিদি, জসিম উদ্দিন আশরাফি, জসিম উদ্দিন নুরি, পীরজাদা রিয়াজ উদ্দিন ঢালি, ফেরদৌসুল আলম খান কাদেরি, শফিউল আলম আজিজি, এস এম কিবরিয়া মাইজভান্ডারি, ইকবাল হোসাইন কাদেরি, আব্দুল মতিন, পীরজাদা জুন নুরাইন, সিদ্দিক আহমদ আজিজি, মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম, সৈয়দ আবু আজম, নুরুল্লাহ রায়হান খান, ডা. এস এম সরওয়ার ও আজাদ হোসাইন।