ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী পদের এক প্রার্থীর আবেদনপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আবেদনটিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সুপারিশ সংযুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর থেকে আবেদনপত্রটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আবেদনপত্রে দেখা যায়, আবেদনকারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রউফের ছেলে মো. আব্বাছ। ওই আবেদনেই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সুপারিশ যুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্বাছ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি বোয়ালমারীর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। সরকারি একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সুপারিশ যুক্ত থাকার বিষয় প্রকাশ্যে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আব্বাছ বলেন, আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিধি মেনেই আবেদন করেছি। আবেদনের সঙ্গে কারও সুপারিশ থাকতেই পারে। যোগ্যতা থাকলে নিয়োগ পাব, না থাকলে পাব না। তবে আমার আবেদনপত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া দুঃখজনক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এটি করা হয়েছে বলে আমার ধারণা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বিলাল হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
jamayat
বগুড়ায় জামায়াত নেতা বহিষ্কার
বোয়ালমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারি কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আবেদন যাচাই-বাছাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত তার নেতৃত্বেই নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে অনেক আবেদন জমা পড়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন যাচাই-বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। ২ আগস্ট থেকে ভাইভা শুরু হয়ে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারির আবেদনপত্রে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির সুপারিশের কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের সুপারিশ সংযুক্ত করে থাকলে তা বিধিবহির্ভূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশ বিবেচনা করা হবে না।