সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বগুড়ার ধুনট উপজেলার জামায়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের রুকনিয়াত বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) রাতে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরের সই করা বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মোশাররফ উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকনের দায়িত্বে ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির তার (মোশাররফ হোসেন) রুকনিয়াত বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রুকনিয়াত বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
এতে আরো বলা হয়, তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, কার্যক্রম বা কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব সংগঠন বহন করবে না।
জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শ, গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িয়ে পড়লে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি মোশাররফ হোসেন। তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
ওই ঘটনার পরে সেই নারীকে বিয়ে করার চেষ্টা করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। তিনি একজন নারীকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু তার সে বিষয়টি আমাদের দলীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে যায় না বলে মনে হয়েছে সংগঠনের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে সংগঠন থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন সংগঠনের রীতিনীতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। এ কারণে আমিরে জামায়াতের সিদ্ধান্তে তার রুকনিয়াত বাতিল করা হয়েছে।’