কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ধুরুমখালী উত্তর জনাব আলী পাড়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে এলাকার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে এই জামে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের প্রথম জুমার নামাজে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল ফজল। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকেই স্থানীয় মুসল্লী, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হন। নামাজের পূর্বে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, হলদিয়া পালং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবুল হোছাইনসহ স্থানীয় সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী একটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের অভাবে ভুগছিলেন। এখন এই মসজিদ উদ্বোধনের মাধ্যমে মুসল্লীদের নামাজ আদায় ও ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের সুব্যবস্থা তৈরি হলো।” বক্তারা আরও বলেন, একটি দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় মসজিদটি আধুনিক স্থাপত্যে নির্মাণ করা হয়েছে। একই ভবনে ফোরকানিয়া মাদ্রাসার কার্যক্রমও চালু করা হবে, যাতে স্থানীয় শিশু-কিশোররা প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে। স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম রোহান বলেন,“আমাদের এলাকায় এমন একটি দালানকোঠার জামে মসজিদ হবে এটা ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। আজ তা বাস্তবায়িত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
মসজিদ উদ্বোধনের দিন জুমার নামাজে অংশ নিতে ধুরুমখালীসহ পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে শত শত মানুষ মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। নামাজ শেষে এলাকাবাসী ও অতিথিদের জন্য বিশেষ দোয়া ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, ধর্মীয় চেতনায় সমৃদ্ধ হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এই ধুরুমখালী জনপদে দীর্ঘদিন ধরে একটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দাবি ছিলো। দাতা সংস্থার সহযোগিতা ও স্থানীয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, এই জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক ঐক্য ও নৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।