কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে নদী দখল উচ্ছেদ অভিযানে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কারণ, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ, তাকেই সঙ্গে নিয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঈদগাঁহ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে ঈদগাঁও নদীর পুরাতন পুলিশ বিট সংলগ্ন ছাগল বাজার পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও নদীর তীর দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের এলাকাজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট। এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন উচ্ছেদে নামে।
কিন্তু অভিযানে দখলদার জাহাঙ্গীর আলমকেই উপস্থিত রাখায় তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— “যে ব্যক্তি নদী গিলে খেয়েছে, তাকেই আবার উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গী করা—এ কেমন প্রশাসনিক নাটক?”
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি খাল-নদী দখলকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে কেউ এমন দখলের চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, দখলদারদের পাশে থেকে নয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দাঁড়াতে হবে। নইলে নদী রক্ষার এ অভিযান থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না, বরং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েই থেকে যাবে বড় প্রশ্নচিহ্ন।