সেন্টমার্টিন দ্বীপে রিসোর্ট ও হোটেল বিক্রির হিড়িক পড়েছে। একসময় দেশের পর্যটন উদ্যোক্তারা রিসোর্ট কিনতে হুমড়ি খেতেন, এখন দ্বীপবাসীরাই রিসোর্ট, হোটেল ও জমি বিক্রি করে দ্বীপ ছেড়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, মাছ ধরা ও পর্যটনই দ্বীপবাসীর একমাত্র জীবিকার মাধ্যম। ভালো আয় পাওয়ায় অনেকেই রিসোর্ট ব্যবসায় যুক্ত হলেও, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পর্যটক সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আয় ব্যাপকভাবে কমেছে। নৌপথে ছয় ঘণ্টা যাত্রা করে মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান, এরপর ফেরার সময় আবার ছয় ঘণ্টা লাগে। ফলে পর্যটক সীমিতকরণের কারণে ব্যবসা চালিয়ে পুরো বছরের সংসার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সেন্টমার্টিন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আবুল হোসেন জানান, তিনি ২০১৭ সালে ২০ শতক জমিতে ‘দ্বীপ কুটির’ রিসোর্ট তৈরি করেছিলেন। মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি রিসোর্ট থেকে পরিবার-পরিজনের সংসার চালাতেন। কিন্তু পর্যটক সীমিত হওয়ায় রিসোর্ট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, “সরকার পর্যটক সীমিত করে দ্বীপবাসীর জীবন হুমকির মুখে ফেলেছে। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না দিয়ে সাময়িক ত্রাণ দেওয়া অনেকটা প্রতারণার শামিল।”
সেন্টমার্টিন হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহিম জিহাদী মন্তব্য করেন, “দ্বীপবাসীর রুটি-রুজি বন্ধ করে দিয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষার নামে যা হয়েছে, তা মূলত পর্যটন বিমুখ করার পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।”
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নভেম্বর থেকে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে রাত্রি যাপনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”