তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন এক প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বিশাল বোঝা চেপে আছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিপুল ঋণের বোঝা ও বৈশ্বিক নানা সংকট সত্ত্বেও সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কারে কাজ করছে। ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারের দৈনিক লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা থেকে ১০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতিচারণা করে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংকটে বারবার সমাধানমূলক নেতৃত্ব দিয়েছে। অতীতের শাসকরা রাষ্ট্রক্ষমতাকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেও বিএনপি সবসময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক ধারা, সাংবিধানিক কাঠামো ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালনা করেছে। তিনি বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সংসদ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ভোটের আচরণ ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা অতীতের ১২টি সংসদের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে দেশের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। তিনি আগামী বাজেটের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জানান, অর্থমন্ত্রী প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় পরীক্ষা। মন্ত্রী এ সময় বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের প্রতি দেশের উন্নয়নে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিগত বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পরিবর্তন, ৮২-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি সংকটের সময় ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
আদর্শিক বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ম বা স্বাধীনতার চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং আদর্শগত পার্থক্যকে সম্মান জানিয়ে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।