1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন লেক থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার অদম্য নারী” পুরস্কার পেলেন কক্সবাজারের ১১ নারী খুনিয়া পালংয়ে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও ইলেকট্রিক বাসে সাজবে রাজধানী ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী উখিয়ায় বিদ্যুৎ গেলেই অচল মোবাইল নেটওয়ার্ক, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলি, সীমান্তে আতঙ্ক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বজ্রপাত, আহত ৫ বনের জমিতে দখলবাজির সাম্রাজ্য, মামলা থাকলেও থামছে না নুরুল হকের দাপট বিনামূল্যে স্কুলড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও ইলেকট্রিক বাসে সাজবে রাজধানী

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ৩০/০৪/২০২৬ ৪:৩৬ এএম

রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, দূষণমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্লিন এবং গ্রিন সিটি’ হিসেবে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১২ দফার এক সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সরকারের এই বিশাল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো তিলোত্তমা রাজধানীকে সবুজে আচ্ছাদিত করা এবং উন্নত বিশ্বের মতো পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ২৫০টি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই রূপরেখা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে নির্ধারিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি রাজধানীর উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) যৌথভাবে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা নগরীর কার্বন নিঃসরণ বহুগুণে কমিয়ে আনবে। বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নদী ও খালের দূষণ রোধে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য অনলাইন ক্যামেরা স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।

সবুজায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ বা নগর বনায়ন পদ্ধতিতে শূন্য মাটি ঢেকে দেওয়ার কাজ চলছে। আধুনিক নগরায়নের নতুন অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের মিরপুর-১২ থেকে ডিওএইচএস পর্যন্ত নিচের খালি জায়গা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত নিচের বিশাল এলাকা পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজে সজ্জিত করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যেখানে সব বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা একটি স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।

সংসদ অধিবেশনে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনদুর্ভোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর যে কষ্ট হয়েছে তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখিত। তিনি এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন। একইসঙ্গে তিনি সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে চার কোটি পরিবার এবং কৃষি কার্ডের মাধ্যমে পৌনে তিন কোটি কৃষককে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এটি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না বলে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে এই অর্থ দিচ্ছে না, বরং বাজেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হচ্ছে।

এছাড়া উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কারিগরি বিষয়গুলো ইতিবাচক হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। অধিবেশনের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় শিষ্টাচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যখন তিনি আইনমন্ত্রীর বক্তৃতার সময় তার সামনে দিয়ে না গিয়ে পেছনের সারিতে আসন গ্রহণ করেন। সংসদ নেতার এই শৃঙ্খলাবোধ ও সৌজন্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্পিকার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রীর এই পুরো বক্তব্যটি ছিল এক আধুনিক ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা আমি ৭১ দেখেছি বর্ডারে যুদ্ধ করেছি বিলোনিয়া সীমান্তে। আজকে যারা গণতন্ত্রের শপথ দিতে চায় যারা ৭১-কে ২৪ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়, খাটো করে দেখতে চায়। তাদের একটি কথাই বলতে চাই, ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। পাকিস্তানে গিয়েছিলাম ২০০৪ সালে জামায়াত ইসলামের একজন এমপি আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন ‘সাফমা’ কনফারেন্সে। আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনে পাকিস্তানের একজন এমপি জামায়াত ইসলামের এমপির সঙ্গে যে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আমাকে করেছিল। আই কান্ট ফরগেট দ্যাট সিচুয়েশন, বিকজ আই ওয়াজ এ ফ্রিডম ফাইটার। কিন্তু তবু দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চুপ করে থাকি, কিছু বলি না। কিন্তু যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আল সামস, তোরা আল বদর। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দেশটাকে স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতা পাওয়া সেই দেশটিকে গড়ার লক্ষ্যে ঐক্য করতে চাই। কিন্তু আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, আমাদের সমঝোতা দিয়ে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থের সমঝোতা, আদর্শের সমঝোতা নয়। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা কালকে বলেছিলেন, উনাকে কেন এত কসলায়, মাননীয় স্পিকার আমি একটু কসলে দিতে চাই।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম। যেকোনো মুহূর্তে আমার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হতো। ঠিক সেই মুহূর্তে চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লব বলি অথবা অভ্যুত্থান বলি, তার মাধ্যমে আমার মুক্তির পথ সুগম হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা হয়। বিএনপি দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের দল; অথচ বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, আর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে। বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হতে পারে। তাহলে এটা কীভাবে আমি মূল্যায়ন করব? বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা আছেন, এটা আপনি বলতে পারেন। তদ্রুপ জামায়াতে ইসলামীতেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২৬-এ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর—তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন নেজামে ইসলামী এবং আলবদর, আলসামস বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যে সমস্ত দামাল ছেলে, যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা… আইন এই সংসদে পাস হয়েছে। সেই আইনে জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিরোধিতা করেনি। এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানানো হয়েছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাই অপারেশন অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন, তাহলে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিল, কারা খুন, গুম ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল, কারা বাংলাদেশের অসংখ্য ও অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে আদর্শিক বিতর্ক বিদ্যমান। তিনি দাবি করেন, এই বিতর্কের মূল কারণ আদর্শগত পার্থক্য। ধর্ম, স্বাধীনতার চেতনা বা আন্দোলনের ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব বিষয় রাজনৈতিক আচরণে প্রভাব ফেলছে।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবকে ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন এই মহান মুক্তিযুদ্ধ ছোট হয়ে যায়। বাংলাদেশ খাটো হয়ে যায়। আমরা লজ্জিত হই। মুক্তিযুদ্ধ কোনো পলিটিক্যাল মেটাফর না, এটা আমাদের অস্তিত্ব।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার একমাত্র রাব্বুল আলামীনের কাছে। আর উনারা সেই বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনি যেদিন মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের বিল পাস হলো, সেদিন ওই বিলে রাজাকার, আল-বদর আল-সামস সমস্ত কিছু লেখা থাকা সত্ত্বেও ওই বিলে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানে ওই সম্পর্কে কিছু না বলে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমাদের নেত্রী গণতন্ত্রের আজন্ম নেত্রী দেশনেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। আজকে নতুন করে এই যে আন্দোলনের আওয়াজ শুনছি, আমরা তো এই সংসদ ১৮ বছরের আন্দোলনের ফসল। এই সংসদ জুলাই আন্দোলনের ফসল। এই সংসদ বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নির্যাতনের ফসল। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম খুন করা হয়েছে, সেই আন্দোলনের ফসল এই সংসদকে আমরা ব্যতিক্রমী সংসদ বলি। এই সংসদের মধ্য দিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা আর বিরোধী দলকে ওই ভাষায় দেখতে চাই না যে, জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো গণতন্ত্রের ওপরে আগুন জ্বালো। আমরা আর এটা দেখতে চাই না। আমরা এই সংসদের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। আজকে বিরোধী দল বলেন যে একজন নেতা সেদিন বলেছেন, যে আমরা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য লড়াই করছি। তাহলে বলব যে আপনাদের দল জামায়াতে ইসলাম যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেন আপনার দলীয় গঠনতন্ত্রে কেন আপনারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনেন না? আজকে দেখলাম একজন মাননীয় সংসদ সদস্য বললেন, আমরা তো বেহেশতের টিকেট চাই, আপনারা কি তাহলে দোজখের টিকিট চান? নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। কোনো মুসলমান দোজখের টিকিট চায়? দোজখের টিকিটও চাইতে পারে না। কোনো মুসলমান বেহেশতের টিকিটও চাইতে পারেন না। এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড তৈরি করবার সময় যিনি রাব্বুল আলামীন, যাকে সবচেয়ে বড় সম্মান দিয়েছেন তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাকেই বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার দেন নাই। বেহেশতের টিকিটের এখতিয়ার একমাত্র রাব্বুল আলামীনের কাছে। আর উনারা সেই বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বাধীনতার এত বছরেও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নির্ভুল-গ্রহণযোগ্য তালিকা করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সব শহীদের একটি নির্ভুল, গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন।

সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে ২০১০ থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট/লাল মুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৮১ জনের।

আমানউল্লাহ আমান জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। এই ইতিহাসের কথা স্মরণ রেখে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমানকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল, কিন্তু বিদেশে চিকিৎসাধীন থেকেও তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ডাকে সাড়া দিয়েই তারা রাজপথে সংগ্রাম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে আমান বলেন, বর্তমানে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। তিনি জামায়াতকে দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে সত্যের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকারকে দেশ গঠনে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সবার নৈতিক দায়িত্ব।

হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই তিনি সেই চেয়ারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর গণভবন ও সংসদ ভবনে যে জনরোষ দেখা গিয়েছিল, তা ছিল সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। নবম জাতীয় সংসদের কথা উল্লেখ করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, সে সময় যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের শিখিয়ে দেওয়া হতো কীভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জনগণের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নই প্রধান লক্ষ্য। এক সময় দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি অনেক টকশো করেছেন, কিন্তু এখন ‘ওয়ার্ক-শো’ করার সময় এসেছে। জনগণের কাছে কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান অগ্রাধিকার।

তিনি আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে রাজনীতির মূল শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এবং প্রতিটি অঞ্চলকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত না করতে পারলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com