কক্সবাজারের টেকনাফে ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ১৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারের মামলায় এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, টেকনাফের ডেইলপাড়া ক্ষেতের বিল এলাকার অনন্ত কুমার শীলের ছেলে রাজু শীল (৪০)। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই মামলায় অভিযুক্ত টেকনাফ উপজেলার নাজিরপাড়ার গুরা মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ মে রাত ১১টার দিকে বিজিবি ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাফ নদীর ভাঙা এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ১৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বিজিবি সদস্য হাবিলদার আশরাফুল আলম বাদী হয়ে রাজু শীলসহ দুইজনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির টেকনাফ থানার মামলা নম্বর ৪৮, তারিখ ১৭ মে ২০১৭। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
বিচার চলাকালে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আলামত উপস্থাপন, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার ৯ এর (খ) সারণি অনুযায়ী রাজু শীলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন।
সূত্র: কক্সবাজার জার্নাল