বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচারে চোরাকারবারিরা এবার ব্যবহার শুরু করেছে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি। দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার হলেও সম্প্রতি ড্রোনের মাধ্যমে ইয়াবা পরিবহনের তথ্য স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সার পাচারের ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে পরিবহন সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন রয়েছে। এসব ড্রোনের মাধ্যমে একবারে এক থেকে দুই কার্টন (প্রতি কার্টনে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা) মাদক সীমান্ত পার করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন। কয়েকজন পাচারকারীর কাছে ড্রোন থাকার তথ্যও রয়েছে। তবে ড্রোনের মাধ্যমে ইয়াবা পাচারের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো বিজিবির কাছে নেই। তিনি জানান, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে বিজিবিও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সার পাচার। পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশলে সরকারি বরাদ্দের সার মিয়ানমারে পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পালংখালী স্টেশন এলাকা থেকে সারের বস্তা সংগ্রহ করে পাচারকারীরা পালংখালী, খাইনখালী, বালুখালী ও হোয়াইক্যং এলাকার খালপথে পানিতে ভাসিয়ে নাফ নদীর তীরবর্তী চিংড়ি ঘেরে নিয়ে যায়। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে পাচার করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, নাফ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে সারের বস্তা পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়। রাতের অন্ধকারে এবং টহলদলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সেগুলো সীমান্ত পার করা হয়। প্রায় প্রতিরাতেই ৩০ থেকে ৪০ বস্তা সার জব্দ করা হলেও পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রতি বস্তা সার পাচারে আড়াই হাজার টাকারও বেশি লাভ হয়। এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ নারী চক্রসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত পাচারকারী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় ১৬৫ জন অনুমোদিত সার ডিলার রয়েছেন। গত মে ও জুন মাসে জেলার জন্য শত শত টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ে কৃষিকাজ সীমিত থাকায় বরাদ্দকৃত সারের একটি অংশ পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কক্সবাজার সার ডিলার সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হক দাবি করেছেন, ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ সঠিক নয়।
পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানিকৃত সার পাচার হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ কারণে জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে গত দুই দিনে ২৪ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সীমান্তে মাদক ও সার পাচারে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: কক্সবাজার জার্নাল