দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরের নরম রোদে পাড়ার মানুষজন ব্যস্ত ছিল নিজেদের কাজে। কোথাও চলছিল গল্প-আড্ডা, কোথাও দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি। এমন সময়, হঠাৎই নেমে আসে আগুনের কুণ্ডলী। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আব্দু শুক্কুরের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই।
উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক রুমখাঁ মৌলভীপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই শুক্কুরের বাড়ির প্রতিটি আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, এমনকি সন্তানদের স্কুলের বই পর্যন্ত পুড়ে যায়। আগুনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় শুক্কুর ছিলেন জীবিকার তাগিদে বাইরে। একমাত্র ভাড়ায় চালিত টমটম নিয়েই চলে তাঁর সংসার। বিকেল তিনটার দিকে আগুন লাগার খবর শুনে ছুটে আসেন বাড়িতে। এসে দেখেন, চোখের সামনে ধ্বংসস্তূপ ভস্মীভূত আশ্রয়,ছাই হয়ে যাওয়া ঘর।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুক্কুর বলেন,“সব শেষ হইয়া গেছে আমার। থাকার ঘর নাই, কাপড় নাই, বাচ্চার বই খাতা পর্যন্ত পুড়ছে। এখন বুঝতেছি না, কোথায় থাকবো।” স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কিছু বের করে আনতে পারেননি। প্রতিবেশীরা পানি ও বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সবকিছু ছাই হয়ে যায়।স্থানীয় বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন জানান, “আমরা যতটা পারছিলাম পানি ঢেলেছি, কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়ানোর কারণে কিছুই বাঁচানো যায়নি।”এখন শুক্কুরের পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসী প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানিয়েছেন শুক্কুরের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। তাঁদের একটাই অনুরোধ“একটা পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে। একটু সহায়তা পেলেই তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।”