1. admin@shimantoshohor.com : সীমান্ত শহর : - shohor
  2. shimantoshohor@gmail.com : সীমান্ত শহর : Shimanto Shohor
শিরোনামঃ

কুতুপালং লম্বাশিয়ায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা হামলায়, আহত ৩

✍️ সীমান্ত শহর

প্রকাশিত: ১৮/০৬/২০২৬ ১১:২৫ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া থানার রাজাপালং ইউনিয়নে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় জয়নাল আবেদীন (৪৩) নামের এক স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীসহ অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুতুপালং পশ্চিম পাড়া (লম্বাশিয়া) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা মোঃ ফিরোজ (২৬) নামের এক চিহ্নিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও, পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এপিবিএন (APBN) পুলিশের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুতুপালং পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন দুপুরে নিজের গৃহপালিত গরু পার্শ্ববর্তী বিলে চরাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লম্বাশিয়া এলাকার একটি ফার্মেসী দোকানের সামনে পৌঁছালে তিনি দেখতে পান, কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের জি-ব্লকের বাসিন্দা মোঃ ফিরোজ এবং তার সহযোগী আরও ৮-৯ জন সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করছে এবং অপহরণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বাধা প্রদান করলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জয়নাল আবেদীনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে বুক, পিঠ ও মাথায় গুরুতর জখম করা হয়। এক পর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ফিরোজ তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে জয়নাল আবেদীনের তলপেট লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করে। জয়নাল আবেদীন আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করলে ছোরার আঘাতে তার বাম হাতের বাহুতে গভীর ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। বাবার চিৎকার শুনে তার পুত্র আরাফাত উদ্দিন (২২) এবং পথচারী মোজাফফল হক (২২) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করে।

আক্রান্তদের শোরগোল ও চিৎকার শুনে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কৌশলে প্রধান অভিযুক্ত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোঃ ফিরোজকে আটকে ফেলে। তবে বাকি ৮-৯ জন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

**এপিবিএন পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:**
ঘটনার পরপরই কুতুপালং লম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটককৃত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোঃ ফিরোজকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ফিরোজকে চিকিৎসার নাম করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ৮-এপিবিএন (APBN) পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে, এপিবিএন পুলিশ তাকে চিকিৎসার অজুহাতে হাসপাতাল বা ক্যাম্প হেফাজতে রাখার পর কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেখান থেকেই সরাসরি ছেড়ে দেয়। একজন চিহ্নিত ও রক্তাক্ত হামলায় জড়িত আসামিকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও চরম নিরাপত্তা হীনতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত জয়নাল আবেদীন, তার পুত্র আরাফাত এবং মোজাফফল হককে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, অভিযুক্ত মোঃ ফিরোজ এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্শ্ববর্তী স্থানীয় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নিরীহ মানুষকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় এবং ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত।

এপিবিএন পুলিশের কাছ থেকে প্রধান আসামি ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় পলাতক অন্যান্য আসামিসহ তারা এখন ভুক্তভোগী পরিবারটিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যার কারণে পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: উখিয়া নিউজ

পোষ্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© 2025 Shimanto Shohor
Site Customized By NewsTech.Com