কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক বিএনপি নেতার ওপর হামলা এবং ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে জামায়াত এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
গত সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে চান্দেরচর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, চান্দেরচর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জামায়াতের একটি সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন সরকার দলীয় কার্যালয়ের সামনে সভা না করার অনুরোধ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন সরকারের অভিযোগ, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন, আমি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সভা না করার জন্য বলতে গেলে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও কিল-ঘুষিতে শরীরের ভেতরে গুরুতর আঘাত পেয়েছি।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি কার্যালয় পরিদর্শন করেন স্থানীয় বিএনপি, যুবদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আশা করি প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চান্দেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হাসান (জাকি) মোবাইল ফোনে জানান, তারা সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়ার নির্দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা রাখছেন।
এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে এসে হেলাল কাকা আপত্তি জানান। আমরা তাকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করি। তখন সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও আমরা পরে সেখান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে তার ওপর হামলা ও বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের খবর সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি। এই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মী জড়িত নয়।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।