জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছে এবং বিরোধীদলে রয়েছে তারা চায় কালকেই যেন সরকারের পতন হয়। তবে সংবিধান অনুযায়ী গঠিত সরকার তার পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করেই পরবর্তী নির্বাচনের দিকে যাবে- এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লালমোহন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
স্পিকার বলেন, ‘আমি সংবর্ধনা নিতে আসিনি, এই জনপদের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এসেছি। নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পর এলাকায় এসেছি শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে তার ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। সংসদে রাজনৈতিক দলগুলো আইন প্রণয়ন করে, আর আমি স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষভাবে তা পরিচালনা করি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করি সবসময়।’
এ সময় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণকে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। পাশাপাশি ভোলায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উপস্থিত জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজটি যাতে লালমোহনে স্থাপন করা হয়, সে জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাবো।’
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আওয়ালের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিফাত বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সৎজিত কুমার ঘোষ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল মো. আজিজ শাহীন পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সূত্র: বার্তাবাজার