বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর সদস্যরা দমদমিয়া চেকপোস্টে পৃথক দুই অভিযানে ইয়াবা ও দেশীয় চোলাই মদসহ দুই মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে টানা অভিযানে এ সাফল্য অর্জন করে বিজিবি সদস্যরা।
প্রথম অভিযানে সকাল ১১টা নাগাদ, টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে কর্তব্যরত ২ বিজিবি সদস্যরা কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী যাত্রীবাহী বাস ‘পায়রা সার্ভিস’ থামিয়ে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির এক পর্যায়ে নারকোটিক্স ডগ ‘মেঘলা’ নির্দিষ্ট এক যাত্রীর শরীর ও আসনের আশপাশে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করে।
এরপর বিজিবি সদস্যরা বিস্তারিত তল্লাশি চালিয়ে আসনের নিচে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় পানির বোতলে ভর্তি ১৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় মোঃ নজুরল ইসলাম (পিতা-মৃত আব্দুর রহমান), গ্রাম ইসলামবাদ ০৪নং ওয়ার্ড, টেকনাফ, কক্সবাজার-কে আটক করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ১১টা ২০ মিনিটে, একই চেকপোস্টে হ্নীলা হতে টেকনাফগামী একটি ইজিবাইক থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করে।
বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে চালককে আটক করতে সক্ষম হয়।
পরে K-9 দল ও নারকোটিক্স ডগ ‘মেঘলা’ এবং ২ বিজিবি’র সদস্যরা ইজিবাইকটি তল্লাশি করে চালকের সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ২০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।
আটককৃত চালকের নাম মোঃ জসিম (১৮), পিতা ইমান হোসেন, গ্রাম জাদিমুড়া ০৭নং ওয়ার্ড, হ্নীলা, টেকনাফ, কক্সবাজার।
অভিযান সম্পর্কে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“সীমান্তাঞ্চলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে স্থানীয় জনমনে গভীর আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারসহ সকল আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি’র এই কার্যকর ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবি জানায়, মাদক পরিবহনের দায়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে এবং জব্দকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।